শুরু হয়েছে পবিত্র মাহে রমজানের মাগফিরাতের দশ দিন। এ সময় মুমিনের কর্তব্য—তাওবা, ইস্তিগফার, অতীতের ভুল স্বীকার এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক সংশোধনের মাধ্যমে এই মহিমান্বিত সময়ের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করা।

আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি যাদের প্রতি অন্যায় করেছি, তাদের কাছেও ক্ষমা চাওয়ার নৈতিক সাহস অর্জন করা জরুরি। কারণ সক্রিয় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই পাপের দাগ ধীরে ধীরে মুছে যেতে থাকে।
যখন হৃদয় রহমতে নরম হয় এবং তাওবার অশ্রুতে পাপ ধুয়ে যায়, তখন মানুষ নাজাতের পথে অগ্রসর হতে পারে। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের নাজাত দেওয়ার আগে পাপ থেকে পবিত্র করেন।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে—“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তাওবা করো। আশা করা যায়, তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদের এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত… তারা বলবে, ‘হে আমাদের রব! আমাদের জন্য আমাদের আলো পূর্ণ করে দিন এবং আমাদের ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সব বিষয়ে সর্বক্ষমতাবান।’ —সুরা আত-তাহরিম, আয়াত ৮
এই আয়াত স্পষ্ট করে—আল্লাহ আগে পাপ মোচন করবেন, তারপর জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তাই নাজাতের দশক আসার আগেই বেশি বেশি তাওবা-ইস্তিগফারে লিপ্ত হওয়া মুমিনের দায়িত্ব।
আরেক স্থানে আল্লাহ তাআলা বলেন—‘তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’
-সুরা আন-নূর, আয়াত ৩১
মাগফিরাত লাভ কেবল আবেগের বিষয় নয়; এটি আমলের বিষয়। এ সময় আমাদের উচিত—নিয়মিত ইস্তিগফার করা, গভীর মনোযোগে নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত ও তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা, দান-সদকা বৃদ্ধি, জিহ্বা ও আচরণ সংযত রাখা, রাতের নির্জনতায় আত্মসমালোচনা করা, নিঃশব্দ রাতে নিজের জীবনের হিসাব নেয়া মানুষকে সত্যিকারের অনুতাপে পৌঁছে দেয়। আর অনুতাপই মাগফিরাতের দরজা খুলে দেয়।
রমজানের শেষ দশকের লক্ষ্য নাজাত লাভ হলেও, সেই মুক্তির ভিত্তি তৈরি হয় প্রথম দুই ধাপের আন্তরিকতা ও প্রচেষ্টার ওপর।
ভুল স্বীকারই প্রকৃত শক্তি
আজকের সমাজে আমরা প্রায়ই ভুলকে স্বাভাবিক করে ফেলি। কিন্তু রমজান আমাদের শেখায়—ভুল স্বীকার করা দুর্বলতা নয়; বরং এটি নৈতিক শক্তির পরিচয়।
যে ব্যক্তি নিজের অন্তরের অন্ধকারের মুখোমুখি দাঁড়াতে পারে, সে-ই প্রকৃত পরিবর্তনের পথে হাঁটতে পারে।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে পাপের অন্ধকার থেকে মুক্ত হয়ে হেদায়েতের আলোর পথে ফিরে আসার তাওফিক দান করুন। আমিন।



