রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাজার স্থিতিশীল, কমেছে নিত্যপণ্যের দাম | চ্যানেল আই অনলাইন

রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাজার স্থিতিশীল, কমেছে নিত্যপণ্যের দাম | চ্যানেল আই অনলাইন

পবিত্র মাহে রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজধানীর বাজারগুলোতে মাছ, ব্রয়লার মুরগি ও গরুর মাংসের দামের তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। তবে রমজানের প্রথম সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমেছে। অন্যদিকে, লেবু, শসা, বেগুন, কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন সবজির দামেও স্বস্তি ফিরেছে।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল, ধানমন্ডি ও রায়েরবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

মাছের বাজারে ২০০ টাকার নিচে নেই কোনো মাছ

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ মিলছে না। প্রতি কেজি পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। রুই বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা এবং কাতলা ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকায়।

এ ছাড়া দেশি টেংরা ৪৫০ টাকা, বেলে ২৫০ টাকা, বাইন ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা (আকার ও জাতভেদে), পাবদা ৪০০ টাকা, কই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, সইল ৭০০ টাকা এবং টাকি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, আগে পাঙ্গাস ও তেলাপিয়ার দাম তুলনামূলক কম ছিল। এখন সেগুলোর দামও বেড়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে রুই বা কাতলা কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

কমেছে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম

বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকায়; যা গত সপ্তাহে ছিল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমেছে। সোনালি জাতের মুরগিও কমেছে ২০ টাকা। বর্তমানে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজিতে, যা সপ্তাহখানেক আগে ছিল ৩২০ টাকা।

গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

এক ক্রেতা জানান, বাজারে ব্রয়লার মুরগির সংকট কমেছে। ১৭৫ টাকা কেজি দরে তিনি একটি মুরগি কিনেছেন, যার ওজন ছিল এক কেজি ৭০০ গ্রামের কিছু বেশি; দাম পড়েছে প্রায় ৩০০ টাকা। রোজার প্রথম দিনে তাকে ১৯০ টাকা কেজি দরে কিনতে হয়েছিল।

বিক্রেতারা বলছেন, বর্তমানে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তবে মাছের বাজারে ক্রেতা বেশি হলেও অনেকেই দাম শুনে ফিরে যাচ্ছেন। তুলনামূলক কম দামের কারণে ব্রয়লার মুরগির দিকে ঝুঁকছেন অনেকে।

সবজির বাজারে স্বস্তি

রমজানের শুরুতে চাহিদা বাড়ায় লেবু, বেগুন, কাঁচা মরিচসহ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়ে গিয়েছিল। তবে বর্তমানে চাহিদা কমে যাওয়ায় দাম অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে।

রোজার আগের দিন যে লেবু হালিপ্রতি ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। বড় আকারের লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, যা আগে ১৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

শসা ও বেগুনের দামও কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে। বর্তমানে শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রোজার শুরুতে কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ২০০ টাকায় উঠলেও এখন ভালো মানের মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজিতে। পাড়া-মহল্লার ভ্যানে সাধারণ মানের মরিচ পাওয়া যাচ্ছে ১০০ টাকায়।

এ ছাড়া শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। একই দামে মুলা, গাজর, পেঁপে, ফুলকপি ও বাঁধাকপিসহ পাঁচ থেকে ছয় ধরনের সবজি পাওয়া যাচ্ছে।

দাম কমার কারণ যা বলছেন ব্যবসায়ীরা

ব্যবসায়ীরা জানান, রোজার আগে অনেকেই একসঙ্গে দুই থেকে তিন সপ্তাহের বাজার করে রাখেন। সে সময় চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়েছিল। বর্তমানে সেই চাপ নেই। পাশাপাশি স্কুল-কলেজে ছুটি শুরু হওয়ায় ঢাকায় মানুষের উপস্থিতিও কমেছে। ফলে চাহিদা কমে বাজারে দামে স্বস্তি ফিরেছে।

তারা আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে চাহিদা কম থাকায় বাজারে দাম আপাতত স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

 

Scroll to Top