নারীদের রাজনীতি ও রাজপথে অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিনের রক্ষণশীল অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসছে দেশের বিভিন্ন ইসলামী দল। একসময় নারী নেতৃত্ব ও মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সীমিত ভূমিকা রাখলেও এখন নারীদের সক্রিয়ভাবে রাজপথে নামানোর উদ্যোগ নিয়েছে দলগুলো। রাজনৈতিক কৌশলের এই পরিবর্তনের পেছনে নারী ভোটারদের কাছে পৌঁছানো, সংগঠন বিস্তার এবং নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্য কাজ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (২৫ মে) সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এরই মধ্যে তাদের শক্তিশালী নারী উইং ও ছাত্রী সংগঠনের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য ইসলামী দলও মহিলা বিভাগ পুনর্গঠন এবং আলাদা ছাত্রী উইং চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নারীদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়টি ইসলামী দলগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন দাবিতে রাজপথে জামায়াতের নারী বিভাগ ও ছাত্রী সংগঠনের দৃশ্যমান উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নির্বাচনের আগে সাধারণ নারী ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে ঘরে ঘরে প্রচারণায় অংশ নেন নারী কর্মীরা, যা দলটির সাংগঠনিক ও নির্বাচনী কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করে।
নির্বাচনের পরও বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দাবিতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে জামায়াতের নারী ও ছাত্রী সংগঠন। দলটির এই সাংগঠনিক সক্রিয়তা অন্য ইসলামী দলগুলোকেও নারী অংশগ্রহণের বিষয়ে নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
এদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে নারী কার্যক্রম জোরদার করতে অনলাইনে আবেদন ফরম চালু করেছে। দলটির নেতৃত্ব বলছে, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হওয়ায় তাদের মধ্যে সাংগঠনিক কাজ বাড়ানো প্রয়োজন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ চ্যানেল আইকে বলেন, নারীদের মধ্যে কাজ না করলে সাংগঠনিক ঘাটতি তৈরি হবে। তাই ইসলামী আদর্শ ও দাওয়াত সমাজের সব স্তরে পৌঁছে দিতে নারী সংগঠন শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, ইসলাম রক্ষণশীলতার নয়, বরং মধ্যপন্থার শিক্ষা দেয়।
দলটির আরেক নেতা ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, নারীদের আরও সংগঠিত করতে মহিলা মজলিসের পাশাপাশি ছাত্রী মজলিস সক্রিয় করা হয়েছে। তার মতে, রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসলামী আদর্শে বিশ্বাসী নারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-ও সম্প্রতি ছাত্রী উইং চালুর ঘোষণা দিয়েছে। দলটির আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা এবং তাদের উপযোগী কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নারী নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও জানান তিনি।
দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, নারীদের পিছিয়ে রেখে সমাজ বা রাষ্ট্রের অগ্রগতি সম্ভব নয়। নারীদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশে সংগঠনের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করা হবে।




