বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের অনেক ক্ষতি হয়। আমাদের দেশে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি তেল দিয়ে চলে। তাই তেলের দাম বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বেড়ে যায়, যা লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি তৈরি করে।
তেলের দাম বাড়লে বাস ও ট্রাকের ভাড়ার ওপরও এর প্রভাব পড়ে। এর ফলে বাজারে চাল, ডাল ও সবজির দাম বেড়ে যায়। আবার কৃষিকাজে পানি দেওয়ার পাম্পগুলো তেলে চলে বলে কৃষকের খরচও অনেক বেড়ে যায়। সহজ কথায়, যুদ্ধ দূরে হলেও এর ফলে আমাদের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে।
আর যুদ্ধ যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলে, তবে বিশ্বজুড়ে জিনিসের দাম বা মুদ্রাস্ফীতি আরও বেড়ে যেতে পারে। এতে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নতি বাধাগ্রস্ত হবে। বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ আসে এই মধ্যপ্রাচ্য এলাকা থেকে। ওপেক জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ হলো ইরাক।
ইতিমধ্যে ইরাক তাদের বিশাল রুমাইলা তেলক্ষেত্র থেকে উৎপাদন ৭ লাখ ব্যারেল কমিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া পশ্চিম কুর্না ২ নামের আরেকটি ক্ষেত্র থেকেও প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল উৎপাদন কমানো হয়েছে। উৎপাদন এভাবে কমতে থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের সংকট আরও তীব্র হবে।
সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন, বিবিসি, ব্যালটপিডিয়া



