ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে একটি বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস।
আজ (৪ জুন) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ২১৫ এবং বিপক্ষে ২০৮ ভোট পড়ে। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি চারজন রিপাবলিকান সদস্যও বিলটির পক্ষে ভোট দেন, যা ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও এই বিষয়ে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দেয়।
বিলটির লক্ষ্য হলো কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট যেন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নিতে না পারেন। মার্কিন সংবিধানের যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকা উচিত এমন যুক্তিকে সামনে রেখেই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলেও বিলটি কার্যকর হওয়ার জন্য এখনো মার্কিন সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চাইলে এতে ভেটোও দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ভেটো অতিক্রম করতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে। বিলটির পক্ষে ভোট দেওয়া রিপাবলিকান সদস্যরা হলেন টমাস ম্যাসি, ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, টম ব্যারেট এবং ওয়ারেন ডেভিডসন। অন্যদিকে, আগে ধরনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করা ডেমোক্র্যাট সদস্য জ্যারেড গোল্ডেন এবার বিলটির পক্ষে অবস্থান নেন।
ভোটাভুটির পর টম ব্যারেট বলেন, “যুদ্ধ ঘোষণা করার সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে এবং এই বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।” নিজের দলের অবস্থানের বিপরীতে ভোট দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, “আমার বিবেক যা বলেছে, আমি সেটি অনুযায়ী ভোট দিয়েছি। আমি এটাকেই সঠিক বলে মনে করি এবং সেজন্য এর দায়ভার নিতেও প্রস্তুত আছি।”
এদিকে গ্রেগরি মিকস বিলটি পাস হওয়াকে ইরানে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ব্যয়বহুল ও অবৈধ যুদ্ধনীতির’ বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি এই সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথও আরও কঠিন করে তুলেছে।
তিনি বলেন, এই ভোটাভুটি প্রমাণ করে যে ক্রমেই আরও বেশি রিপাবলিকান সদস্য তাদের ভোটারদের অবস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, যারা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি আরেকটি যুদ্ধ দেখতে চান না।





