উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, রাজনৈতিক বিভাজন, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং উন্নত কাজ-জীবনের ভারসাম্যের খোঁজে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ছেন রেকর্ড সংখ্যক মার্কিন নাগরিকরা। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নেট মাইগ্রেশন নেতিবাচক হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর অন্তত ১ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন নাগরিক বিদেশে বসতি গড়েছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই প্রবণতায় শুধু পরিবার বা মধ্য-ক্যারিয়ারের পেশাজীবীরাই নন, আগ্রহ দেখাচ্ছেন জেন-জি ও মিলেনিয়াল প্রজন্মের অনেক তরুণও। এর আগে সর্বশেষ ১৯৩৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এমন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল, যখন কাজের সন্ধানে অনেক মার্কিন নাগরিক সোভিয়েত ইউনিয়নে চলে গিয়েছিলেন।
ডোনাল্ড ড্যাশ নামে নতুন প্রবণতা
যুক্তরাষ্ট্র থেকে নাগরিকদের বিদেশে চলে যাওয়ার এই সাম্প্রতিক প্রবণতাকে অনেকে ডোনাল্ড ড্যা” নামে অভিহিত করছেন, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের সময়ের সঙ্গে মিল রেখে দেখা যাচ্ছে।
ইউরোপের তুলনামূলক সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা ও সহজ জীবনধারার কারণে অনেক মার্কিন নাগরিক সেখানে বসবাসে আগ্রহী হচ্ছেন। বিশেষ করে পর্তুগাল, স্পেন ও গ্রিস অনেকের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। সেখানে স্বাস্থ্যসেবা খরচ তুলনামূলক কম এবং কাজ-জীবনের ভারসাম্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কেন বিদেশে যাচ্ছেন মার্কিনরা
যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঞ্চলে বাড়ির দাম বৃদ্ধি এবং খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবাসহ দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই বিদেশে যাওয়ার কথা ভাবছেন।
অনেকের মতে, বিদেশে গেলে ধীরগতির জীবন, কম মানসিক চাপ এবং শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সুবিধা পাওয়া যায়। জার্মানির বার্লিনে বসবাসরত এক মার্কিন প্রবাসী বলেন, এখানে পাঁচ বছরের শিশুকে কিন্ডারগার্টেনে গিয়ে বন্দুক হামলার মহড়ার মুখোমুখি হতে হয় না।
ডিজিটাল ও দূরবর্তী কাজের বিস্তারও এই প্রবণতা বাড়িয়েছে। অনেক পেশাজীবী এখন বিদেশে বসবাস করেও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করতে পারছেন। এতে তারা ডলারে আয় করছেন, আবার কম খরচের দেশে বসবাসের সুবিধাও পাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের এই প্রবণতা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন ও বহিষ্কার নীতিও ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার ধরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিদেশে বসবাসের জন্য মার্কিন নাগরিকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মেক্সিকো, স্পেন, পর্তুগাল, আয়ারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, গ্রিস এবং বালি।
এর মধ্যে পর্তুগালে কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে মার্কিন প্রবাসীর সংখ্যা প্রায় ৫০০ শতাংশ বেড়েছে। শুধু ২০২৪ সালেই দেশটিতে মার্কিন নাগরিকের সংখ্যা ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
এছাড়া গত এক দশকে স্পেন ও নেদারল্যান্ডসে মার্কিন বাসিন্দার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, আর চেক প্রজাতন্ত্রে তা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
অন্যদিকে জার্মানি ও আয়ারল্যান্ডেও মার্কিনদের আগমন বাড়ছে। ২০২৫ সালে আয়ারল্যান্ডে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন নাগরিক নতুন করে বসবাস শুরু করেছেন, যা আগের বছরের প্রায় দ্বিগুণ।




