অর্থনীতি ছাড়া অন্য যে বিষয়টি সব ধরনের ভোটারদের কাছে সর্বাধিক গুরুত্ব পায়, তা হলো অভিবাসন। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, ইউরোপের অধিকাংশ দেশেই অবৈধ অভিবাসনকে কেন্দ্র করে একাধিক সরকারের পতন হয়েছে। ট্রাম্প বরাবরই ভোটারদের, বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, বল্গাহীন অভিবাসনের ফলে আমেরিকার জনসংখ্যাগত চরিত্রে যেমন পরিবর্তন আসছে, তেমনি তার সাংস্কৃতিক, এমনকি ধর্মীয় চরিত্রেও বড় রকমের আঘাত আসছে। প্রচার চালানো হয়েছে মুসলিম আগমনের ফলে এ দেশে শরিয়াহ আইনের প্রবর্তন হবে। সে ভয়কে উসকে দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমাদের দেশ আর আমাদের হাতে নেই, সে এখন পৃথিবীর “ডাস্টবিন”, সারা পৃথিবীর খুনে, রোগগ্রস্ত, ধর্ষক ও সন্ত্রাসীরা ওই ডাস্টবিনে আশ্রয় পাচ্ছে।’
শুধু শ্বেতাঙ্গরাই নন, যেসব অভিবাসীর বিরুদ্ধে ট্রাম্প বিষ ঢেলেছেন, তাঁরাও সে কথা কানে তুলেছেন। ট্রাম্পের ক্রোধের মূল লক্ষ্য দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আসা অভিবাসীরা। অথচ এবার প্রথমবারের মতো হিস্পানিক অভিবাসী ভোটারদের ৫০ শতাংশের বেশি ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এ কথা সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা গেছে অ্যারিজোনার মারিকোপা ও ইয়ুমা জেলায়, যেখানে বৈধ-অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রায় শতভাগ।
নিজেদের স্বার্থবিরোধী জানা সত্ত্বেও অভিবাসীরা কেন ট্রাম্পকেই সমর্থন করলেন? এর একটি সম্ভাব্য উত্তর, যাঁরা ইতিমধ্যে সীমান্ত অতিক্রম করে এপারে চলে এসেছেন অথবা বৈধতা অর্জন করেছেন, তাঁরা অতিরিক্ত অভিবাসী আগমন নিজেদের রুটিরুজি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি ভেবেছেন। তবে এটিই একমাত্র কারণ নয়। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আসা বহিরাগতদের অধিকাংশ ডেমোক্র্যাটদের ‘উদারনৈতিক’ মূল্যবোধের সঙ্গে একাত্ম হতে পারেনি। গর্ভপাত অথবা সমকাম ও লিঙ্গান্তরিত ব্যক্তিদের ব্যাপারে এই দলের অবস্থান ও অতিরিক্ত আগ্রহ তাঁদের মনে মোটেই আস্থার সঞ্চার করেনি।



