যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে বদলাচ্ছে আইন, আয় কমবে রাষ্ট্রীয় বিমা সংস্থার

যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে বদলাচ্ছে আইন, আয় কমবে রাষ্ট্রীয় বিমা সংস্থার

সাধারণ বীমা করপোরেশন বলেছে, তারা শতভাগ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা। ফলে আন্তর্জাতিক মানের চেয়েও বেশি, অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তা পেয়ে থাকেন গ্রাহকেরা। এখন পর্যন্ত বৈদেশিক অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পের বিমা ঝুঁকি গ্রহণে তাদের কোনো সমস্যা হয়নি। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক রেটিং থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপ অপ্রয়োজনীয়। এটি বাস্তবায়িত হলে বিদেশি অর্থায়নের সব প্রকল্পের বিমা প্রিমিয়াম দেশের বাইরে চলে যাবে।

সাধারণ বীমা করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, খসড়া অনুযায়ী ৫০ শতাংশের কম মালিকানা থাকলেই তা বেসরকারি হিসেবে গণ্য হবে, যার অর্থ হচ্ছে এগুলোর পুনর্বিমা করার কোনো বিধানই আর থাকছে না।

সাধারণ বীমা করপোরেশন বিমা দাবি পরিশোধ করে না, আর পুনর্বিমা প্রিমিয়াম পরিশোধ করে না বিমা কোম্পানিগুলো—এমন অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ চলছে বছরের পর বছর ধরে। করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিগুলোর কাছে সংস্থাটির পুনর্বিমা প্রিমিয়াম পাওনা আছে ১ হাজার ১২৩ কোটি টাকা। আর সাধারণ বীমা করপোরেশনের কাছে কোম্পানিগুলোর দাবি ৯৩০ কোটি টাকা (জরিপ প্রতিবেদনসহ), যদিও প্রাথমিক দাবি অনুযায়ী তা দেড় হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

দেশের অন্যতম নন-লাইফ কোম্পানি গ্রিনডেল্টা ইনস্যুরেন্সের উপদেষ্টা তারিক উর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কারণ ছাড়াই পুনর্বিমা দাবির টাকা বছরের পর বছর আটকে রাখছে করপোরেশন। যে সংস্থা দাবির অঙ্ক সময়মতো পরিশোধ করতে পারে না, আইন করে সেই সংস্থায় পুনর্বিমা করতে বাধ্য করা অন্যায়। তিনি বলেন, ‘আইন সংশোধনের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। পুনর্বিমা করার সুযোগ উন্মুক্ত করে দেওয়া উচিত। কেউ চাইলে শতভাগ পুনর্বিমা করপোরেশনে করবে, কেউ চাইলে সংস্থাটিতে তা আংশিক করবে অথবা কেউ চাইলে শতভাগ করবে বিদেশে।’

Scroll to Top