যথাযথ শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে মব কালচারসহ নানা সামাজিক সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ সমস্যার মূলেই শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা রয়েছে। তাই শিক্ষা ব্যবস্থাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
শনিবার কক্সবাজারের লিডারশিপ ট্রেনিং সেন্টারে আয়োজিত ‘কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলা এবং নোয়াখালীর ভাসানচরে প্রাক্-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় স্কুল ফিডিং ও প্রকল্প কার্যক্রম বাস্তবায়নবিষয়ক এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী শিক্ষকদের কাছে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, খেলার মাঠ ও প্লেগ্রাউন্ডের অবস্থা, ভিত্তিমূলক শিক্ষা ও গণিত দক্ষতা কার্যক্রম, মিডডে মিল বাস্তবায়ন, গার্ড ও ক্লিনার সংকট, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা এবং শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মতামত জানতে চান। তিনি বলেন, যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দুর্বলতা চিহ্নিত ও উন্নয়ন করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে মাঠপর্যায়ের শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হলে বাস্তব সমস্যাগুলো খোলামেলাভাবে তুলে ধরতে হবে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার “কাঠামোগত সংস্কার” নিয়ে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে মিডডে মিল, ইউনিফর্ম, জুতা ও পাঠ্যবই বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে আনা নয়, শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করাও জরুরি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষকদের সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, পাঠদানের মান এবং শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ইতোমধ্যে কয়েকজন প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ক্ষমতায়ন ও সহায়তা নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।
নিজের ১৭ বছরের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, উচ্চশিক্ষায় আসা অনেক শিক্ষার্থীর মৌলিক জ্ঞান দুর্বল থাকে। এর পেছনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের দুর্বল ভিত্তি দায়ী। তাই প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করা গেলে দেশের অর্থনীতি, সামাজিক শৃঙ্খলা ও সামগ্রিক উন্নয়নের অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহীনা ফেরদৌসী। এ ছাড়া কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা অংশ নেন।
পরে প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম, বিদ্যালয়ের পরিবেশ, উপস্থিতি ও পাঠদানের মান নিয়ে মতবিনিময় করেন।





