আলজেরিয়া ম্যাচে হ্যাটট্রিকের পর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও লিওনেল মেসি শো দেখল বিশ্ব। ডালাসে আরও একটি হ্যাটট্রিক পেতে পারতেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি, যদি পেনাল্টি মিস না হত। অষ্টম মিনিটের সেই হোঁচট মেসি পুষিয়ে দিলেন বাঁ পায়ের জাদুতে। অস্ট্রিয়ার জালে জোড়া গোল করে আর্জেন্টিনাকে পৌঁছালেন নকআউটে, এক ম্যাচ হাতে রেখে। সেই রেকর্ডও গড়লেন, মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে ১৮ গোল নিয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের মালিক এখন ৩৮ বর্ষী কিংবদন্তি।
ডালাসের এটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়ামে ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। বল নিয়ে অস্ট্রিয়ার ডি বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন লৌতারো মার্টিনেজ। অস্ট্রিয়া মিডফিল্ডার জাভের শ্লাগার এবং ডিফেন্ডার স্টেফান পসখ ট্যাকল করেন। ইন্টার মিলান তারকা পড়ে যান। রেফারি প্রথমে ফাউলের বাঁশি না দিলেও পরে ভিএআর এর সাহায্য নেন। শেষ অবধি পেনাল্টির পায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে সুযোগ হাতছাড়া করেন মেসি। গোলপোস্টের ডানদিকে বাইরে পাঠিয়ে দেন আর্জেন্টিনা কিংবদন্তি।
এরপর অস্ট্রিয়া চাপ তৈরি করলেও কোনো আক্রমণ করতে পারেনি। ম্যাচের ১৮তম মিনিটে ফের সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। মার্টিনেজ বল বাড়ান মেসির দিকে। মেসি শট নেন গোলবারের দিকে। তবে আলেকজান্ডার শ্লাগারের পায়ে লেগে রক্ষা পায় অস্ট্রিয়া। আরও একটি সুযোগ হারায় আলবিসেলেস্তেরা।
২৩ মিনিটে আক্রমণ তৈরি করে অস্ট্রিয়া। স্টেফান পসখ ক্রস বাড়ান পল ভানারকে উদ্দেশ্য করে। তবে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো হেডে তা প্রতিহত করেন। ফিরতি বল পেলেও সেটাও ফেরান টটেনহ্যাম ডিফেন্ডার। কর্নার পায় অস্ট্রিয়া, মার্সেল সাবিৎজারের নেয়া কর্নার কোনো চাপ তৈরি করতে পারেনি।
৩২ মিনিটে আক্রমণ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। অস্ট্রিয়ার দুজনকে কাটিয়ে এনজো ফার্নান্দেজকে একটি বল হালকা করে দেওয়ার চেষ্টা করেন মেসি। তবে বল চলে যায় গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগার বলটি সরাসরি মেসির কাছেই ফিরিয়ে দেন। মেসি শট নিলেও নিকোলাস সাইভাল্ড তা ঠেকিয়ে দেন।
৩৮ মিনিটে লিড পায় আর্জেন্টিনা। থিয়েগো আলমাদা বল নিয়ে আক্রমণে যান। বাঁ দিকে ফাকুন্দো মেদিনার দিকে বল বাড়িয়ে দেন। সেখান থেকে মেদিনা বল দেন মেসিকে। প্রথম স্পর্শেই ডানদিকের নিচের কোণায় স্লাইড করে বল পাঠিয়ে নিজের ১৭তম বিশ্বকাপ গোলটি করেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। তাতে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে। পরে লিড ধরে রেখে বিরতিতে যায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
৫২ মিনিটে কনরাড লাইমারকে ফাউল করেন রোমেরো। ডি বক্সের বাম দিকে কোনাকুনি ফ্রি কিক পায় অস্ট্রিয়া। সাবিৎজার দারুণ শট নেন, তবে গোলবারে ছিলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। অসাধারণ ভাবে তা ঠেকিয়ে দেন। লিড অটুট থাকে আর্জেন্টিনার।
৭৪ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি পেতে পারত আলবিসেলেস্তেরা। তবে ভাগ্য সহায় হয়নি। কর্নার থেকে দারুণভাবে ডি বক্সে বল পাঠান মেসি। ফাঁকা জায়গায় বল পান নিকো গঞ্জালেস। হেড করেন ঠিকঠাকই, তবে বল বেরিয়ে যায় পোস্টের একদম কাছ দিয়ে।
৮৬ মিনিটে আরও একটি সুযোগ হাতছাড়া হয় গতআসরের চ্যাম্পিয়নদের। নিকো গঞ্জালেস বল নিয়ে এগিয়ে যান অস্ট্রিয়া ডি বক্সে। হালকা ভাসিয়ে জাল মুখে বল মারেন, তবে কেভিন ডানসো আটকে দেন। ফিরতি বল পান এনজো ফের্নান্দেজ, তার শটটিও প্রতিহত হয়।
বিস্তারিত আসছে…




