মিয়ানমার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কড়া পদক্ষেপের আহ্বান জানাল মার্কিন কংগ্রেস | চ্যানেল আই অনলাইন

মিয়ানমার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কড়া পদক্ষেপের আহ্বান জানাল মার্কিন কংগ্রেস | চ্যানেল আই অনলাইন

মিয়ানমার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর ও সমন্বিত নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস। ইউএস হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি’র পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো আন্তোনিও রুবিওকে পাঠানো এক চিঠিতে এই সুপারিশ করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পরও মিয়ানমারের জান্তা সরকার দেশটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে দেশের ৪০ শতাংশের বেশি এলাকা প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে, আর মাত্র ২১ শতাংশ এলাকা সেনাবাহিনীর দৃঢ় নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

‘ভুয়া নির্বাচন’ ও আন্তর্জাতিক প্রভাব
কংগ্রেস সদস্যরা দাবি করেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না; বরং জান্তার বৈধতা প্রতিষ্ঠার একটি প্রচেষ্টা। অনেক এলাকায় ভোটই হয়নি, বিরোধী দলগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং শত শত মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, জান্তা সরকার চীন, রাশিয়া ও ইরান-এর কাছ থেকে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা পাচ্ছে। বিপরীতে গণতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন চাইছে।

মানবাধিকার পরিস্থিতি ও শরণার্থী সংকট
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এখনো ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে ৬,৮০০-এর বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

বর্তমানে প্রায় ১৬ লাখ শরণার্থী থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া রোহিঙ্গা গণহত্যার শিকার লাখো মানুষ এখনো বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

অপরাধ চক্র ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
চিঠিতে বলা হয়, সীমান্ত অঞ্চলে গড়ে ওঠা প্রতারণা চক্র (স্ক্যাম সেন্টার) যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এসব চক্রে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ জোরপূর্বক কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে এবং মার্কিন নাগরিকরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুপারিশ
কংগ্রেস সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যেমন-

* মিয়ানমার জান্তাকে কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা এবং তাদের বৈধতা না দেওয়া
* আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ
* গণতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা বাড়ানো
* শরণার্থী ও মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি
* আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ জোরদার করা

এছাড়া, মিয়ানমার সংকট মোকাবিলায় একটি বিশেষ সমন্বয়ক নিয়োগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

চিঠিতে সতর্ক করা হয়, পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও কৌশলগত উদ্যোগ না নিলে এই সংকট আরও গভীর হয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

কংগ্রেস সদস্যরা মনে করেন, মিয়ানমারের জনগণের গণতন্ত্রের সংগ্রামে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা রাখা জরুরি এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

Scroll to Top