মিয়ানমারে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ: জান্তার নতুন কৌশলে কোণঠাসা বিদ্রোহীরা – DesheBideshe

মিয়ানমারে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ: জান্তার নতুন কৌশলে কোণঠাসা বিদ্রোহীরা – DesheBideshe


মিয়ানমারে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ: জান্তার নতুন কৌশলে কোণঠাসা বিদ্রোহীরা – DesheBideshe

নেপিডো, ১০ জুন – মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ এক নতুন ও জটিল মোড় নিয়েছে। দেশের তরুণদের জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে নিয়োগের মাধ্যমে সামরিক জান্তা নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। এর ফলে এক সময় সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো এখন অনেকটা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

সম্প্রতি পাহাড়ঘেরা জঙ্গলে অবস্থিত একটি বিদ্রোহী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া চার তরুণের অভিজ্ঞতায় এই বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে। তাদের কারোরই যুদ্ধে জড়ানোর ইচ্ছা ছিল না। পেশায় রাঁধুনি এক তরুণকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সেনারা তুলে নেয়। অন্য একজনকে গভীর রাতে বাড়ি ফেরার সময় আটক করা হয়।

তৃতীয়জন ছিলেন বন বিভাগের কর্মী এবং চতুর্থজনকে একটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। ১৯ থেকে ২৫ বছর বয়সী এই তরুণদের অভিযোগ যে কোনো ধরনের পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই তাদের সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে পাঠানো হয়েছিল।

বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ পাওয়া সদস্যদের দিয়ে কঠোর পরিশ্রম করানো হলেও নিয়মিত সেনারা তুলনামূলকভাবে কম কাজ করতেন। চার মাসের প্রশিক্ষণ শেষে তাদের কারেন রাজ্যের ফ্রন্টলাইনে পাঠানো হয়। তবে একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

পালানোর সময় তারা পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের একটি টহলের হাতে আটক হন। বর্তমানে তারা বিদ্রোহীদের সঙ্গেই অবস্থান করছেন। ২০২১ সালে অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিয়ানমারে সংঘাত চলছে। তবে ২০২৪ সাল থেকে জারি করা বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ আইন যুদ্ধের গতিপথ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।

বিদ্রোহী কমান্ডারদের মতে এই নীতির ফলে জান্তা বাহিনী বিপুল সংখ্যক নতুন যোদ্ধা পাচ্ছে যা তাদের সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে অর্থ ও অস্ত্রের সংকটে ভুগছে বিদ্রোহীরা। প্রযুক্তিগত কিছু সুবিধা থাকলেও পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে তারা অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে।

বিদ্রোহী নেতারা স্বীকার করেছেন যে অনিচ্ছায় যোগ দেওয়া সেনারাও ধীরে ধীরে সংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে উঠছে। পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার ফলে জান্তা বাহিনীর বিমান শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে তারা ড্রোন প্রযুক্তিতেও অনেকটা এগিয়ে গেছে।

একই সঙ্গে চীনের মধ্যস্থতায় কিছু বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে জান্তার যুদ্ধবিরতি হওয়ায় প্রতিরোধ বাহিনীর সরবরাহ লাইন দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই সংকটের মধ্যেও বিদ্রোহীদের লড়াইয়ের ইচ্ছা ম্লান হয়নি। একটি অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক বিদ্রোহী কমান্ডার জানান যে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে পা হারালেও তিনি আবার যুদ্ধে ফিরতে চান।

কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সেখানে আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা চলছে। এই অন্ধকারের মাঝেও মানবিকতার কিছু উজ্জ্বল মুহূর্ত লক্ষ্য করা গেছে। ওই হাসপাতালেই এক বিদ্রোহী দম্পতির ঘরে জন্ম নিয়েছে একটি কন্যাশিশু।

যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে নবজাতকের আগমন যেন এক আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। শিশুটির নাম রাখা হয়েছে সু পেয়ে যার অর্থ পূরণ হওয়া ইচ্ছা। শিশুটির বাবা মায়ের স্বপ্ন একদিন এই যুদ্ধ শেষ হবে এবং তারা একটি শান্ত ও স্বাধীন মিয়ানমারে তাদের সন্তানকে বড় করতে পারবেন।

এস এম/ ১০ জুন ২০২৬



Scroll to Top