
তেহরান, ১৬ মার্চ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলার কারণে ইরানের জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজধানী তেহরানের সাধারণ নাগরিকরা এখন তীব্র উৎকণ্ঠা এবং গভীর হতাশার মধ্যে দিন পার করছেন। সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়ালে শহরের পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে তাদের প্রতিটি রাত কাটছে চরম আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে। তেহরানের এক ৩২ বছর বয়সী বাসিন্দা নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে বলেন যে গত কয়েক দিন ধরে তার কাছে মনে হচ্ছে তিনি এক ধ্বংসস্তূপের মাঝে বসবাস করছেন।
তিনি বর্তমান এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর এবং হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেছেন। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নাগরিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন যে প্রতি রাতে হামলার মাত্রা আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ ইরানিরা নিজেদের পুরো বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে করছেন। তবে এমন ভীতিকর ও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
৪৪ বছর বয়সী এক নাগরিক জানান মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও জীবন থেমে থাকে না। তাই আতঙ্কে ঘরে বসে থাকার বদলে তারা দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাওয়াকেই বেঁচে থাকার অন্যতম উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছেন। অন্যদিকে ৩০ বছর বয়সী এক নারী জানান রাতের বেলায় শহরজুড়ে বোমার বিকট শব্দ শোনা যায় যা তাদের জন্য অত্যন্ত ভীতিকর। বিদেশে থাকা কিছু প্রবাসী এই সংঘাতকে সমর্থন করলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখে এটি একটি চরম ভুল এবং অর্থহীন ধ্বংসযজ্ঞ ছাড়া আর কিছুই নয়। তাদের মতে ক্রমাগত বোমাবর্ষণের নিচে এমন মানবেতর জীবনযাপন কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
এস এম/ ১৬ মার্চ ২০২৬




