ইমাম রাজি এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, মহানবী (সা.) একদিকে যেমন আল্লাহর সিদ্ধান্তের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন, তেমনি অন্যদিকে মানুষকে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন। এখানে ‘সহজ করে দেওয়া’ মানে জোর করা নয়; বরং মানুষ যে ভালো বা মন্দ পথ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করে, আল্লাহ তার জন্য সেই পথকেই সুগম করে দেন। (ফখরুদ্দিন আল-রাজি, মাফাতিহুল গাইব, ৩১/১৮৫, দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত)
ইমাম ইবনে বাত্তাল বলেছেন, রাসুলের এই বাণী মূলত তাদের ভুল প্রমাণ করে যারা মনে করে মানুষ নিজের ইচ্ছাহীন পুতুলমাত্র। কারণ পথ সুগম করে দেওয়া আর বাধ্য করা এক জিনিস নয়। মানুষ নিজের পছন্দ ও স্বাধীন ইচ্ছায় কাজ করে বলেই সে সওয়াব বা শাস্তির যোগ্য হয়। (আলি ইবনে খালাফ ইবনে বাত্তাল, শারহু সহিহিল বুখারি, ১০/৩০৩, মিসবাহুর রুশদ, রিয়াদ, ২০০৩)
পরিশেষ বলা যায়, তকদির মানুষের হাত-পা বেঁধে দেওয়ার কোনো ধারণা নয়। ভাগ্যে বিশ্বাস মানুষকে সফল হলে অহংকারী হতে দেয় না, আবার ব্যর্থ হলে হতাশায় ভেঙে পড়তেও দেয় না। মানুষ জানে, চেষ্টা করা তার নিজের নৈতিক দায়িত্ব, আর তার পরিণাম আল্লাহর প্রজ্ঞার ওপর নির্ভরশীল।



