মাদাগাস্কারে ঘূর্ণিঝড় গেজানির তান্ডবে নিহত অন্তত ৪০, মোজাম্বিকে আঘাত হানার শঙ্কা – DesheBideshe

মাদাগাস্কারে ঘূর্ণিঝড় গেজানির তান্ডবে নিহত অন্তত ৪০, মোজাম্বিকে আঘাত হানার শঙ্কা – DesheBideshe

মাদাগাস্কারে ঘূর্ণিঝড় গেজানির তান্ডবে নিহত অন্তত ৪০, মোজাম্বিকে আঘাত হানার শঙ্কা – DesheBideshe

মাদাগাস্কার, ১৩ ফেব্রুয়ারি – ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় গেজানি মাদাগাস্কারে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর এবার মোজাম্বিকের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে মাদাগাস্কারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর তোয়ামাসিনায় আঘাত হানা এই ঝড়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে দেশটির জাতীয় ঝুঁকি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর বা বিএনজিআরসি। ঝড়ের প্রভাবে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন এবং আরও ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ৩৭৪ জন। মঙ্গলবার তোয়ামাসিনা উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার যা প্রবল শক্তিশালী ঝড়ের ইঙ্গিত দেয়। দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কর্নেল মাইকেল র্যান্ড্রিয়ানিরিনা ইতিমধ্যে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে তোয়ামাসিনা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রায় ৭৫ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছপালা এবং উড়ে যাওয়া বাড়ির ছাদ শহরের যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে কোনোমতে মাথা গোঁজার ঠাঁই মেরামতের চেষ্টা করছেন। বিএনজিআরসি জানিয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ১৮ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বা প্লাবিত হয়েছে আরও অন্তত ৫০ হাজার বাড়ি।

দুর্বল কাঠামোর কারণে অনেক ভবন ধসে পড়ায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে বলে কর্তৃপক্ষ মনে করছে। রাজধানী আন্তানানারিভোর সঙ্গে তোয়ামাসিনার সংযোগকারী প্রধান সড়কের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফ্রান্স তাদের রিইউনিয়ন দ্বীপ থেকে উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা বা আইওএম এই পরিস্থিতিকে ব্যাপক বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়েছে উপগ্রহ যুগে এই অঞ্চলে রেকর্ড হওয়া অন্যতম শক্তিশালী ঝড় এটি। ১৯৯৪ সালের ঘূর্ণিঝড় জেরাল্ডার সাথে এর তুলনা করা হচ্ছে যাতে কয়েকশ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। এদিকে স্থলভাগ অতিক্রমের পর কিছুটা দুর্বল হলেও মোজাম্বিক চ্যানেলে পৌঁছে এটি পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ এটি দক্ষিণ মোজাম্বিকে আঘাত হানতে পারে এমন পূর্বাভাস দিয়ে সেখানে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মোজাম্বিক কর্তৃপক্ষ প্রবল বাতাস ও ১০ মিটার উঁচু ঢেউয়ের আশঙ্কায় উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। উল্লেখ্য যে সম্প্রতি মৌসুমি বৃষ্টিপাতে মোজাম্বিকে বন্যা দেখা দিয়েছে যাতে গত অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ এম/ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬



Scroll to Top