ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঘরমুখো যাত্রীদের ঢল নেমেছে। অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় পরিবহণগুলোতে কয়েকগুণ ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ যাত্রীদের।

সোমবার (২৫ মে) সকাল হতে মহাসড়কে যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করে।
এরমধ্যে বৃষ্টি শুরু হলে কয়েক ঘণ্টা ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা। তবে দুপুরের দিকে কারখানা ছুটি হলে বিকালে যাত্রীদের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। যানবাহনের সঙ্কট না থাকলেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে পরিবহণগুলো। রপ্তানি হতে চন্দ্রার ভাড়া ২০-৩০ টাকা, সেখানে নেওয়া হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। টাঙ্গাইলের ভাড়া সর্বনিন্ম ৫০০ টাকা ও উত্তরবঙ্গে সর্বনিন্ম এক হাজার টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বিকালে যাত্রীর চাপ বাড়ে। গাজীপুর ছাড়াও সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ থেকে যাত্রীরা গাজীপুর হয়ে উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গে ফিরছেন। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী, বোর্ডবাজার, ভোগরা, চৌরাস্তা, রাজেন্দ্রপুর ও মাওনা এলাকায় যাত্রীদের চাপ সবচেয়ে বেশি। এদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ি, সফিপুর, পল্লিবিদুৎ, চন্দ্রা, খাড়াজোড়া, বাইমাইল এলাকায় যাত্রীদের চাপ বেশি। অতিরিক্ত যাত্রীদের চাপে অন্তত ২০ কিলোমিটার এলাকায় থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়।
কুড়িগ্রামগামী যাত্রী মো. লাবলু মিয়া বলেন, আমি কোনাবাড়ীতে একটি গার্মেন্টেসে কাজ করি। ১১ দিন ছুটি হয়েছে, এখন পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে বের হয়েছি। তবে এসে যা দেখছি মানুষের ভিড় তো আছেই, ভাড়া কয়েকগুণ বেশি। প্রশাসনের নজরদারি দরকার।
রংপুরগামী যাত্রী তৌহিদ বলেন, আমি রপ্তানিতে চাকরি করি। রাস্তাঘাটে খুব খারাপ অবস্থা যানজট। রপ্তানি হতে চান্দুরার ভাড়া ২০ টাকা কিন্তু আজ ১৫০ টাকা নিল। শুধু দূরপাল্লার না, লোকাল ভাড়াও বেড়েছে কয়েকগুণ। এটা বড় একটা সিন্ডিকেটের মতো।
বাসের সহযোগী ছাত্তার বলেন, সকালে যাত্রীর চাপ ছিল না। বিকালে কারখানার ছুটি হওয়ায় যাত্রীর চাপ বেড়েছে। এই চাপ ঈদের আগের দিন পর্যন্ত থাকবে। ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে না। ঈদ উপলক্ষে ২০০-৩০০ টাকা বেশি নেওয়া হয় এটা সবসময়।
শ্যামলী পরিবহণের গাজীপুর ও টাঙ্গাইল অঞ্চলের এরিয়া ম্যানেজার প্রবীর চন্দ্র যুগান্তরকে বলেন, সোমবার অধিকাংশ শিল্পকারখানায় ছুটি হওয়ায় যাত্রীর চাপ বেড়েছে। তবে এখনো বড় ধরনের যানজট দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, ২৬ মে আরও বেশি কারখানা ছুটি হলে মহাসড়কে চাপ বাড়তে পারে। তবে, উত্তরবঙ্গমুখী সড়কের উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ায় এবার ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হতে পারে।
চন্দ্রা মোড়ে দায়িত্বরত সার্জেন্ট শিবলু যুগান্তরকে বলেন, দুপুরের পর থেকে মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও যানজট সৃষ্টি হয়নি। কিছু কারখানায় সোমবার ছুটি হওয়ায় শ্রমিকরা দুপুরের পর থেকেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
নাওজোড় হাইওয়ে থানার ওসি সওগাতুল আলম বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মাঠে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ। আজ অনেক কারখানা ছুটি হয়েছে, দুপুরের পর থেকে যাত্রীদের চাপ বাড়বে। এই চাপ ঈদের আগের দিন পর্যন্ত থাকবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, আজ সোমবার ৪৫ ভাগ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এরমধ্যে দুই হাজারের অধিক পোশাক কারখানা রয়েছে। বাকি কারখানায় আগামীকাল ছুটি দেওয়া হবে।




