ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নবগঠিত সরকারে টেকনোক্র্যাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও একসময়কার সেরা গোলকিপার আমিনুল হক। দায়িত্ব নিয়ে প্রথমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন তিনি।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল বলেছেন, ‘আমরা প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দেবো। তবে প্রথম পর্যায়ে এটি সব প্রতিষ্ঠানে দেয়া সম্ভব হবে না। বর্তমানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা মিলিয়ে বাংলাদেশে প্রায় ১ লক্ষ ৪৮ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে যদি আমরা পাঁচটি খেলা বাধ্যতামূলক করি তবে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ ক্রীড়া শিক্ষক প্রয়োজন হবে। এই মুহূর্তে আমাদের কাছে এত ক্রীড়া শিক্ষক নেই।’
‘বাংলাদেশের ৪৯৫টি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া অফিসার নিয়োগ দেয়া হবে। প্রতিটি উপজেলায় ৫টি ইভেন্টের জন্য ৩ জন করে মোট ১৫ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। প্রথম পর্যায়ে আমরা প্রায় ৭,৯২০ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি এবং আশা করছি প্রথম বছরেই এটি শুরু করতে পারব। নারী ও পুরুষ উভয় ফুটবল এবং ক্রিকেট দলকে সমান গুরুত্ব দেয়া হবে।’
ভারতের সাথে ক্রিকেট সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আমিনুল বললেন, ‘ক্রিকেটের যে সমস্যাটি রয়েছে (বিশ্বকাপ সংক্রান্ত) তা নিরসনের জন্য পার্শ্ববর্তী দেশের (ভারত) সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে ভারতের ডেপুটি হাই-কমিশনারের সাথেও আমার কথা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে ক্রীড়া সাংবাদিকদের সাথে বসে তাদের পরামর্শ নেব। ক্রীড়াঙ্গন আমাদের সবার, তাই আপনাদের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।’
খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব ও বেতন কাঠামো নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বললেন, ‘আমাদের সাবেক খেলোয়াড়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যেও পেশাদারিত্ব আনতে চাই। ক্রিকেট এবং ফুটবলসহ প্রতিটি ফেডারেশনের ন্যাশনাল প্লেয়ারদের (জাতীয় দল) জন্য সরকারিভাবে বেতন কাঠামোর ব্যবস্থা করা হবে। এটি প্রতিবছর পরিবর্তিত হতে পারে, তবে যারা জাতীয় দলে থাকবে তারা সরকারি বেতন পাবে।’

স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করা প্রসঙ্গে আমিনুল বললেন, ‘আমরা বাংলাদেশে একটি স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলতে চাই। বর্তমানে আমাদের অনেক খেলার সরঞ্জাম বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আমরা চাই আমদানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেরাই উন্নত মানের সরঞ্জাম তৈরি করতে, যাতে আমাদের খেলোয়াড়রা সেগুলো ব্যবহার করতে পারে এবং আমরা বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারি।’
অন্যান্য ফেডারেশন নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানালেন তিনি, ‘ফেডারেশনগুলোকে শক্তিশালী করতে কর্পোরেট হাউজগুলোর সাথে কথা বলছি। একটি বার্ষিক ক্রীড়া ক্যালেন্ডার তৈরি করা হবে, যেখানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সব খেলার সময়সূচি থাকবে।’
‘অবকাঠামোর চেয়েও আমি খেলোয়াড়দের উন্নয়নের দিকে বেশি মনোযোগী হতে চাই। আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর ক্রীড়াঙ্গন গড়ে তুলতে চাই যেখানে কোন বাধা-নিষেধ থাকবে না এবং খেলোয়াড়রা ভালো পরিবেশে নিজেদের প্রতিভা বিকশিত করতে পারবে।’


