মধ্যবর্তী নির্বাচনেই অবসান হচ্ছে ট্রাম্প যুগের?

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বড় ধরনের পালাবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় পতন, রিপাবলিকানদের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষ এবং ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য উত্থান, সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এর মধ্য দিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্প যুগের অবসানের সূচনা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।

ট্রাম্প

জনমত জরিপগুলোতেও রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। সিএনএনের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সমর্থন ৪৯ শতাংশ, অন্যদিকে রিপাবলিকানদের পক্ষে ৩৯ শতাংশ। একই জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন নেমে গেছে রেকর্ড ৩২ শতাংশে। ফলে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে জবাবদিহি। ২০২৪ সালের নির্বাচনে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জ্বালানি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, অভিবাসন বিরোধী অভিযান, শুল্কনীতি, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে ব্যাপক জবাবদিহিতার মুখে পড়তে হবে। ইরান যুদ্ধের ব্যয়, যুদ্ধ পরিচালনায় প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং সংঘাতের পরিণতি নিয়ে তদন্ত ও শুনানির মুখে পড়তে পারে হোয়াইট হাউস।

ইরান যুদ্ধের দ্রুত অবসানের আশ্বাস দিলেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং বাড়ছে সামরিক ব্যয়। জ্বালানি বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। একইসাথে মধ্যপ্রাচ্যে ঝুঁকিতে পড়েছে মার্কিন স্বার্থ। যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে স্পষ্ট চাপ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে যুদ্ধের যৌক্তিকতা, সামরিক ব্যয়ের হিসাব এবং প্রশাসনের কৌশল নিয়ে জবাবদিহিতা দাবি করতে পারবে। সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নির্ধারণে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেই ট্রাম্পের সব সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যাবে, তা নয়। নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা সম্ভব হলেও বড় নীতিগত পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন হবে নতুন আইন, কিংবা রাজনৈতিক সমঝোতা।

এদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির শঙ্কায় ট্রাম্পের রাজনৈতিক আন্দোলন ‘মেইক অ্যামেরিকা গ্রেট এগেইন’ তথা ‘মাগা’র ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের সামনেও রয়েছে অভ্যন্তরীণ বিভাজনের চ্যালেঞ্জ। নেতৃত্বের সংকট, পুরোনো ও নতুন প্রজন্মের নেতাদের মতপার্থক্য এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে দলীয় বিরোধ তাদের ঐক্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলেও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ট্রাম্পের আবির্ভাবের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না। বরং ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়ার পরও তার রাজনৈতিক দর্শন ও নীতির প্রভাব দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে। বিশ্লেষকেরা এই পরিস্থিতিকে ‘লং ট্রাম্প ইফেক্ট’ বা দীর্ঘস্থায়ী ট্রাম্প প্রভাব বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

Scroll to Top