
রিয়াদ, ৪ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনায় সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুজন বাংলাদেশি নিহত এবং সাতজন আহত হওয়ার ঘটনায় প্রবাসীদের পরিবারগুলোতেও চরম দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। টানা হামলা ও আকাশসীমা বন্ধ থাকার কারণে ইরানে অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশির সঙ্গে তাদের স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় অনেকেই পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না, যা দেশে থাকা স্বজনদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দুবাইপ্রবাসী রনি হোসেন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক মনে হলেও সংবাদের দিকে তাকালেই ভয় কাজ করে। অনিশ্চয়তার কারণে পরিবারের সদস্যরাও বারবার খোঁজ নিচ্ছেন। হবিগঞ্জের সুন্দর আলীর ছেলে লুৎফুর রহমান দীর্ঘ ছয় বছর ধরে তেহরানে আছেন। সুন্দর আলী জানান, এক সপ্তাহ ধরে ছেলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। ফোন বন্ধ ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকায় সংবাদের দিকে তাকিয়ে বুক কেঁপে ওঠে তার।
একইভাবে ফাতেহা বেগমের ছেলে রুমান মিয়া ইরানে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। সর্বশেষ যুদ্ধের আগের দিন কথা হলেও এরপর থেকে কোনো খোঁজ নেই। বিভিন্ন সূত্রমতে, ইরানে বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ হাজার বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় কর্মরত রয়েছেন। উপসাগরীয় দেশগুলো যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনেও এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে। আকাশসীমা আংশিক বন্ধ ও ফ্লাইট বাতিলের কারণে যাতায়াতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রবাসীরা জানান, সরাসরি যুদ্ধ না হলেও কর্মক্ষেত্র ও বাসস্থানে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে দুজন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার গভীর শোক প্রকাশ করেছে। নিহতরা হলেন মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সালেহ আহমেদ এবং চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মোহাম্মদ তারেক। গত শনিবার আরব আমিরাতের আজমানে ইফতার শেষে কাজে বের হওয়ার সময় উজ্জ্বল বস্তুর আঘাতে সালেহ আহমেদ নিহত হন। অন্যদিকে সোমবার রাতে বাহরাইনে শিপইয়ার্ডে কর্মরত অবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে মোহাম্মদ তারেক প্রাণ হারান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং সেখানে বসবাসরত ৬০ লাখের বেশি বাংলাদেশির নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কুয়েতে ড্রোন হামলায় আহত চারজন বাংলাদেশি বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
এস এম/ ৪ মার্চ ২০২৬





