মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনার মাধ্যমে কোনো শিশুর বাবা, মা বা অভিভাবককে হত্যা করলে, অপরাধীকে ওই শিশুর ভরণপোষণের পুরো দায়িত্ব নিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে এমনই এক যুগান্তকারী আইন কার্যকর হয়েছে। ‘বেন্টলিস ল’ বা ‘হাউস বিল ৩৯৩’ নামের এই আইনটি সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে টেক্সাসে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
এই আইন অনুযায়ী, যদি কোনো মদ্যপ চালক (ইন্টক্সিকেশন ম্যানস্লটার) দোষী সাব্যস্ত হন এবং তার কারণে কোনো শিশুর অভিভাবক প্রাণ হারান, তবে ওই চালককে শিশুটির ক্ষতিপূরণ বা ‘চাইল্ড সাপোর্ট’ দিতে হবে। শিশুটির বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া অথবা হাইস্কুল শেষ না হওয়া পর্যন্ত (দুটির মধ্যে যেটি পরে ঘটে) এই আর্থিক সহায়তা চালিয়ে যেতে হবে।
বিচারক এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় নজরে রাখা হবে:
* শিশুটির বর্তমান আর্থিক, মানসিক ও শিক্ষাগত চাহিদা।
* শিশুটির পূর্বের জীবনযাত্রার মান।
* বেঁচে থাকা অন্য অভিভাবকের আর্থিক অবস্থা। অপরাধীর নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা।
অপরাধী যদি কারাবন্দী থাকেন, তবে কারাগার থেকে মুক্তির এক বছরের মধ্যে তাকে কিস্তিতে এই অর্থ প্রদান শুরু করতে হবে এবং বকেয়া অর্থও পরিশোধ করতে হবে।
আইনটির নাম ‘বেন্টলিস ল’ রাখার পেছনে রয়েছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। ২০২১ সালের এপ্রিলে মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে এক মদ্যপ চালকের বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান কর্ডেল উইলিয়ামস, তার বাগদত্তা লেইসি নিউটন এবং তাদের ৪ মাস বয়সী শিশু সন্তান। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বাবা-মাকে হারিয়ে এতিম হয়ে পড়ে তাদের আরও দুই সন্তান— বেন্টলি ও মেসন।
দুর্ঘটনার পর শিশু দুটির দাদি সিসিলিয়া উইলিয়ামস তাদের দায়িত্ব নেন এবং মদ্যপ চালকদের জবাবদিহির আওতায় আনতে একটি জোরালো লড়াই শুরু করেন। তিনি এমন একটি আইনের দাবি তোলেন, যা কেবল অপরাধীকে শাস্তিই দেবে না, বরং পিতৃহীন শিশুদের আর্থিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত করবে। তার সেই দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসলই হলো আজকের ‘বেন্টলিস ল’, যা তার নাতি বেন্টলির নামানুসারে রাখা হয়েছে।
সিসিলিয়া উইলিয়ামসের এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ এখন পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে একটি বড় আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। ২০২২ সালে টেনেসি প্রথম অঙ্গরাজ্য হিসেবে এই আইনের একটি সংস্করণ পাস করে। এরপর টেক্সাস, কেন্টাকি, মেইনসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য আইনটি গ্রহণ করেছে।



