ভোটের দুইদিন পর ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় একটি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করা হবে উল্লেখ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইওএম) প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস আইজাবস বলেছেন, বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সিলেট প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মিশন প্রধান আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউ’র সম্পর্ক পুরোনো ও দীর্ঘদিনের। আমরা সবসময় বাংলাদেশকে একটি গতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই। আমরা আশা করি, অবাধ, বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি নতুন পার্লামেন্ট গঠিত হবে এবং একটি গতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে দেশটি আবির্ভূত হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইভারস আইজাবস বলেন, ঐতিহাসিক এই নির্বাচন ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছভাবে আয়োজন করা জরুরি। স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা এবং হস্তক্ষেপহীনতা-এই তিনটি কারিগরি মূল্যায়ন নীতির ওপর ভিত্তি করে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
আইজাবস বলেন, আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করব, কিন্তু ফলাফল প্রত্যয়ন করব না। এই নির্বাচন কেবল বাংলাদেশের জনগণের। বাংলাদেশ একটি অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম বলে ইইউ মনে করে। ভোটের দুইদিন পর ১৪ ফেব্রুয়ারি ইইউ-ইওএম ঢাকায় একটি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করবে এবং সংবাদ সম্মেলন করবে।
ইইউ মিশন প্রধান বলেন, মিশনটির পূর্ণাঙ্গ জনবলে ইইউ’র সব সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ড থেকে প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক যুক্ত হবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকায় অবস্থানরত ১১ জন বিশ্লেষকের একটি মূল দল, ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক, ভোটের ঠিক আগের দিন নিযুক্ত ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক এবং ইইউ সদস্য রাষ্ট্র ও অংশীদার দেশগুলোর কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকরা।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধি দলও মিশনকে আরো শক্তিশালী করবে উল্লেখ করে মিশনটি ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নীতিমালার ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হবে বলে জানান আইজাবস। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইইউ পর্যবেক্ষক দলের কাজও জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে সহায়ক হবে।
আইজাবস বলেন, ইইউ ইওএম নারী, যুবক এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীসহ রাজনৈতিক ও নাগরিক অংশগ্রহণের সামগ্রিক পরিবেশও মূল্যায়ন করবে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যবেক্ষণ ইউনিটগুলো ভোটাররা কতটা তথ্যসমৃদ্ধ সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হচ্ছেন, তা মূল্যায়ন করবে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য একটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ-ইওএম) নিযুক্ত করেছে।




