গত মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্লে-অফের ম্যাচে বেনফিকার জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নির বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ তোলেন রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়াস জুনিয়র। উত্তপ্ত ইস্যুতে খেলা ১১ মিনিট বন্ধ ছিল। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তের পর আর্জেন্টাইন তরুণ প্রেস্টিয়ান্নিকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। সোমবার বিবৃতিতে জানিয়েছে তারা।
গত সপ্তাহে ভিনিসিয়াসের গোলে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকার বিপক্ষে জয় পায় রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচে ভিনিকে বর্ণবাদী মন্তব্য করেন বেনফিকার প্রেস্টিয়ান্নি। ভিনির ফরাসি সতীর্থ কাইলিয়ান এমবাপেও জানান, প্রেস্টিয়ান্নির মুখ থেকে গালি শুনেছেন।
উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী, বর্ণবাদের অভিযোগ নিরঙ্কুশ প্রমাণিত হলে অন্তত ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেতে পারতেন প্রেস্টিয়ান্নি। তবে বেনফিকা প্রেস্টিয়ান্নির পক্ষেই কথা বলেছে। আর্জেন্টাইন তারকা নিজেও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এরআগে ২০ বর্ষী প্রেস্টিয়ান্নি বলেছিলেন, প্রতিপক্ষ তাকে ভুল বুঝেছে। ভিনিসিয়াস অভিযোগ করেন, বেনফিকার একজন তার প্রতি বর্ণবাদী মন্তব্য করেছেন। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে রেফারিকে জানান এবং ক্ষোভে মাঠ ছেড়ে ডাগআউটে চলে যান। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, প্রায় ১১ মিনিট খেলা বন্ধ রাখতে হয়।
বিষয়টির ব্যাখ্যা করে প্রেসটিয়ান্নি বলেছিলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, কখনও রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে বর্ণবাদী মন্তব্য করিনি, দুঃখের ব্যাপার তিনি আমার থেকে যা শুনেছেন বলে মনে করেছেন তা ভুল বুঝেছেন। আমি কারও সাথেই বর্ণবাদী আচরণ করিনি এবং রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে পাওয়া হুমকির জন্য আমি দুঃখিত।’
উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী, পরিস্থিতি সামাল দিতে ম্যাচ রেফারি ফ্রানকইস লেতেজিয়ার ফিফার অ্যান্টি-রেসিজম প্রোটোকল চালু করেন। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, ম্যাচ আর চালানো সম্ভব হবে না। পরে অবশ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে খেলা আবার শুরু হয়।
ঘটনার জেরে বেনফিকার কোচিং স্টাফের একজন সদস্যকে লাল কার্ড দেখানো হয়। পরে আলাদা এক ঘটনার জেরে দলের ম্যানেজার হোসে মরিনহোকেও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়। এসব ঘটনা ছাড়াও বিরতির পর যখন ভিনিসিয়াস বল স্পর্শ করেন, তখনই গ্যালারি থেকে শিস ও বিদ্রূপের শব্দ ভেসে আসতে শোনা গেছে।




