ভারত মহাসাগরে ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র | চ্যানেল আই অনলাইন

ভারত মহাসাগরে ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র | চ্যানেল আই অনলাইন

ভারত মহাসাগরে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির ওপর আরোপিত তেল অবরোধ কার্যকর রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ়তা স্পষ্ট হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) পেন্টাগন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি বন্ধের অভিযানের অংশ হিসেবে ট্যাঙ্কারটি আটক করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই অভিযান আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং চুরি ও জলদস্যুতার শামিল।

পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অ্যাকুইলা টু’ নামের জাহাজটি ক্যারিবীয় অঞ্চলে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা ও কোয়ারেন্টাইন অমান্য করে চলাচল করছিল। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জাহাজটি পালানোর চেষ্টা করেছিল, আমরা অনুসরণ করেছি।

পেন্টাগন আরও জানায়, ক্যারিবীয় সাগর থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত জাহাজটির গতিপথ নজরদারিতে ছিল মার্কিন বাহিনী। একই সঙ্গে, হেলিকপ্টার থেকে ভারী অস্ত্রধারী সেনাদের জাহাজে অভিযান চালানোর ভিডিও প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে পেন্টাগন দাবি করে, স্থল, আকাশ বা সমুদ্র যে কোনো ক্ষেত্রেই আমাদের সশস্ত্র বাহিনী আপনাকে খুঁজে বের করবে এবং বিচার নিশ্চিত করবে।

পানামার পতাকাবাহী ‘অ্যাকুইলা টু’ জানুয়ারির শুরুতে ভেনেজুয়েলার জলসীমা ত্যাগ করে। জাহাজটিতে প্রায় সাত লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। তথ্যটি ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-এর নথির বরাত দিয়ে প্রকাশ করেছে সংবাদ সংস্থাটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র গত ডিসেম্বর থেকে ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজ জব্দ করা শুরু করে। গত মাসে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর এই অভিযান আরও জোরদার হয়।

পরবর্তী মার্কিন হামলার হুমকির মুখে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ যিনি আগে মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন গত মাসে একটি আইন স্বাক্ষর করেন। ওই আইনের মাধ্যমে দেশটির প্রধানত রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত তেল খাত বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

তবে এরপরও যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজ আটক ও জব্দ অব্যাহত রেখেছে।

ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যেই ভেনেজুয়েলার তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলেছেন। অনেক সময় তারা ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের বলে দাবি করেছেন যা সমালোচকদের মতে ভিত্তিহীন।

জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে তেল খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কম দামে জ্বালানি পাবে।

সাবেক প্রেসিডেন্টকে অপসারণের পর থেকে ভেনেজুয়েলা একটি জ্বালানি চুক্তির আওতায় কয়েক কোটি ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করেছে। গত মাসে রদ্রিগেজ জানান, যুক্তরাষ্ট্রে তেল বিক্রি করে ভেনেজুয়েলা ৩০ কোটি ডলার পেয়েছে। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, মোট ৫০ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট সোমবার প্রকাশিত পলিটিকো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি শিগগিরই ভেনেজুয়েলা সফরের পরিকল্পনা করছেন। তাঁর ভাষায়, পিডিভিএসএ-এর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে কারাকাসের সঙ্গে সংলাপ শুরু করাই এই সফরের লক্ষ্য।

Scroll to Top