ভারতে সামাজিক মাধ্যমে কড়াকড়ি, ৩ ঘণ্টায় সরাতে হবে অবৈধ কনটেন্ট – DesheBideshe

ভারতে সামাজিক মাধ্যমে কড়াকড়ি, ৩ ঘণ্টায় সরাতে হবে অবৈধ কনটেন্ট – DesheBideshe

ভারতে সামাজিক মাধ্যমে কড়াকড়ি, ৩ ঘণ্টায় সরাতে হবে অবৈধ কনটেন্ট – DesheBideshe

ভারত, ১১ ফেব্রুয়ারি – সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ভারত সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে কোনো অবৈধ কনটেন্ট সম্পর্কে অবহিত করার তিন ঘণ্টার মধ্যেই তা প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। আগে এই কনটেন্ট সরানোর সময়সীমা ছিল ৩৬ ঘণ্টা। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে সংশোধিত এই নির্দেশনা কার্যকর হবে। মেটা, ইউটিউব এবং এক্সের মতো বড় সব প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি কনটেন্টের ক্ষেত্রেও একই সময়সীমা মেনে চলতে হবে। যদিও সরকার সময়সীমা কমানোর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ব্যাখ্যা করেনি, তবে সমালোচকদের মতে, এটি অনলাইন কনটেন্টের ওপর সরকারি নজরদারি বৃদ্ধির একটি কৌশল। এর ফলে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটিতে সেন্সরশিপের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার স্বার্থে সরকার একাধিকবার কনটেন্ট সরানোর নির্দেশ দিয়েছে। স্বচ্ছতা প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে সরকারি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ হাজারের বেশি ওয়েব লিংক বা ইউআরএল ব্লক করা হয়েছে।

নতুন সংশোধনীতে প্রথমবারের মতো ডিপফেকের মতো এআই নির্মিত বা পরিবর্তিত অডিও ভিডিওর সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব প্ল্যাটফর্মে এআই জেনারেটেড কনটেন্ট তৈরি বা শেয়ার করা হয়, সেখানে স্পষ্টভাবে লেবেল বা ট্যাগ যুক্ত করতে হবে। এছাড়া অবৈধ এআই কনটেন্ট, যেমন প্রতারণামূলক তথ্য, ভুয়া নথি, সম্মতি ছাড়া তৈরি ভিডিও বা ছবি শনাক্ত ও প্রতিরোধে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল অধিকারকর্মী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এই কঠোর সময়সীমা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের মতে, এত অল্প সময়সীমা প্ল্যাটফর্মগুলোকে দ্রুত সেন্সরশিপের দিকে ঠেলে দেবে। ডিজিটাল ফিউচারস ল্যাবের গবেষক অনুশকা জৈন জানান, লেবেল দেওয়ার নিয়ম স্বচ্ছতা বাড়ালেও তিন ঘণ্টার সময়সীমা কোম্পানিগুলোকে পুরোপুরি অটোমেশনের ওপর নির্ভরশীল করে তুলবে, যা অতিরিক্ত সেন্সরশিপের ঝুঁকি তৈরি করবে। প্রযুক্তি বিশ্লেষক প্রশান্ত কে রায়ের মতে, এটি সম্ভবত কোনো গণতান্ত্রিক দেশের সবচেয়ে কঠোর কনটেন্ট অপসারণ ব্যবস্থা।

এস এম/ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬



Scroll to Top