ভারতের মুম্বাইতে মৌসুমী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত | চ্যানেল আই অনলাইন

ভারতের মুম্বাইতে মৌসুমী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত | চ্যানেল আই অনলাইন

ভারতের মুম্বাইয়ে টানা ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতা, যান চলাচলে বিঘ্ন, গাছ উপড়ে পড়া এবং দেয়াল ধসের ঘটনায় বুধবার সকালে নগরজুড়ে দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতের ভারী বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ২০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে সড়ক প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি উপনগরীয় ট্রেন চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে নগরীর দুর্বল অবকাঠামোর চিত্রও সামনে এসেছে।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) মুম্বাইয়ের জন্য ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করেছে। সংস্থাটি মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার সতর্কতা দিয়েছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৫টার মধ্যে শহরের রাম মন্দির, কোলাবা ও সান্তাক্রুজ এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। রাম মন্দির এলাকায় সর্বোচ্চ ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া কোলাবায় ২১৮ দশমিক ৫ মিলিমিটার এবং সান্তাক্রুজে ২১০ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এছাড়া সিয়ন, ভিখরোলি, বিদ্যাবিহার, টাটা পাওয়ার চেম্বুর, বাইকুলা, বান্দ্রা এবং জুহু বিমানবন্দর এলাকায় ১১৫ দশমিক ৬ থেকে ২০৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে।

স্বাভাবিক সময়ের ১৩ দিন পর মঙ্গলবার দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মুম্বাইয়ে প্রবেশ করে। এর ফলে শহর ও শহরতলিতে ব্যাপক বৃষ্টিপাত শুরু হয় এবং তীব্র গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পায় নগরবাসী।

ভারী বৃষ্টির কারণে ভিখরোলি পশ্চিম এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের পাশের দেয়াল ধসে পড়েছে। জোগেশ্বরী-ভিখরোলি লিংক সড়কের সান সিটি কমপ্লেক্সের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

শহরের অন্য একটি এলাকায় একটি গাছ ভেঙে একটি গাড়ির ওপর পড়ে। এতে গাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভেতরে থাকা চালক আহত হন। উদ্ধারকাজ চলমান রয়েছে এবং গাছটি সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে অতিরিক্ত পানির স্রোতের কারণে তুরভে ও কোপারখাইরানে স্টেশনের মধ্যবর্তী রেললাইনের একটি অংশ ধসে যাওয়ায় নাভি মুম্বাইয়ের থানে-ভাশি/পানভেল ট্রান্স-হারবার লাইনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়।

সেন্ট্রাল রেলওয়ের এক মুখপাত্র জানান, থানে-ভাশি আপ লাইন ভোর ৫টা ৬ মিনিটে এবং ডাউন লাইন ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে অনিরাপদ ঘোষণা করা হয়। ফলে অফিসগামী ব্যস্ত সময়ে ট্রেন চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।

পরে সকাল ৭টা ২৭ মিনিটে আপ লাইন ১০ কিলোমিটার গতিসীমা নির্ধারণ করে চালুর অনুমতি দেওয়া হয়। আর সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে ডাউন লাইন নিরাপদ ঘোষণা করে ট্রেন চলাচলের জন্য ৩০ কিলোমিটার গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়।

রেলওয়ে কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অতিরিক্ত পানির প্রবাহের কারণেই রেললাইনের নিচের মাটি সরে গিয়ে এ ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেনের বিলম্ব এবং যাত্রীদের ভিড় বেড়ে যায়।

বুধবার বৃহন্মুম্বাই পৌর করপোরেশন (বিএমসি) জানিয়েছে, শহরের কয়েকটি এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে বেশিরভাগ স্থান থেকে পানি নেমে গেছে। একই সঙ্গে যান চলাচলও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে বিএমসি জানায়, আন্ধেরি সাবওয়ে, হিন্দমাতা, দাদার ও মালাড সাবওয়ে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য জলাবদ্ধতা ছিল। তবে বর্তমানে সেসব স্থান থেকে পানি সরে গেছে। এছাড়া সিয়নের গান্ধী মার্কেট এলাকায়ও পানি দ্রুত নিষ্কাশন হচ্ছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

পৌর কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, রেলওয়ে ও বিএসটি (বেস্ট) বাসসেবাও বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে বরিভালি পশ্চিম এলাকার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে বিএমসি। সেখানে দেখা যায়, পৌরসভার কর্মীরা ড্রেন পরিষ্কার করে জমে থাকা পানি অপসারণের কাজ করছেন, যাতে দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়।

Scroll to Top