মালদ্বীপকে হারিয়ে মেয়েদের সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। গ্রুপপর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে অবশ্য ছন্দ হারিয়েছে লাল-সবুজের দল। স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছে পিটার বাটলার শিষ্যরা। তাতে গ্রুপরানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশ।
গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম আক্রমণ করে ভারতের গোলরক্ষককে একা পেলেও গোল করতে পারেননি আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। পরের মিনিটে ভারত সুযোগ পায়, গোলও করে তবে অফসাইডে বাতিল হয়ে যায়। এ যাত্রায় বেঁচে যায় বাংলাদেশ।
অষ্টম মিনিটে মারিয়া মান্দার ক্রস ভারতের ডি বক্স ঢুকলেও হেড করতে পারেননি শামসুন্নাহার জুনিয়র। ১২ মিনিটে প্রথম কর্নার আদায় করে নেয় ভারত, তবে কোনো বিপদ হয়নি বাংলাদেশের।
মনিকা চাকমার ভুলে ২২ মিনিটে ভারতের লেফট উইং এবং ২৩ মিনিটে সানফিদা ননগ্রাম বাংলাদেশের গোলরক্ষককে একা পেলেও পরাস্ত করতে পারেননি। ২০ মিনিটের পর থেকে বাংলাদেশের ডিফেন্স কিছুটা এলোমেলো হয়ে যায়।
২৫ মিনিটে ননগ্রাম আরও একটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। ২৭ মিনিটে ভারতের পিয়ারি জাসা ফাঁকা গোলবার পেলেও হেড করেন বারের বাইরে দিয়ে। ২৮ মিনিটে বাংলাদেশ ডি বক্সের বাইরে ফ্রিকিক পান, মারিয়া বারের বাইরে দিয়ে মারেন।
৩৬ মিনিটে আবারও ডিফেন্ডারদের ভুল। ঠিকঠাক হেড করতে পারেননি সুরমা জান্নাত। বল পেয়ে ভারতের পিয়ারি জাসা গোল করতে ভুল করেননি, ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ভারত।
বিরতির পর বাংলাদেশের আরও সুযোগ আসে সমতায় ফেরার, সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি আনিকা-ঋতুপর্ণারা। ৬১ মিনিটে শামসুন্নাহার সিনিয়র শট নিলেও তা ছিল দুর্বল, ভারতীয় গোলরক্ষকের ঠেকাতে সমস্যা হয়নি।
৬৫ মিনিটের মাথায় তিন পরিবর্তন করে বাংলাদেশ, সুরভী আকন্দ প্রীতি, রিপা খাতুন ও উমেলা মারমাকে মাঠে নামান পিটার বাটলার। ৬৮ মিনিটে বদলি নামা উমেলা মারমা নিশ্চিত গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন। পরের মিনিটে ভারতের জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন গোলকিপার মিলি আক্তার। এ যাত্রায় বেঁচে যায় বাংলাদেশ।
৭৬ মিনিটে আবারও আক্রমণ করে ভারত, এ যাত্রায়ও গোল বেঁচে যায় বাংলাদেশ। তবে পরের মিনিটে ডি-বক্সে মালভিকাকে ফাউল করেন ডিফেন্ডার সুরমা জান্নাত। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে সেখান থেকে গোল করেন ভারতের লিন্ডা কম সারতো, ২-০ গোলে এগিয়ে যায় ভারত।
এরপর যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আরও এক গোল হজম করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ভুলে এবার গোল করেন মালভিকা, ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় ভারত। পরে ওই ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত।
দুই জয়ে গ্রুপচ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে ভুটানকে প্রতিপক্ষ পেয়েছে ভারত।





