আইসিসির আয়ের বেশির ভাগই যায় তিন মোড়লের কোষাগারে। এরপর পায় পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বাংলাদেশের মতো দেশগুলো। আর যারা পূর্ণ সদস্য নয়, তাদের ভাগ্যে জোটে খুব সামান্য! কিন্তু ফিফায় চিত্রটা ভিন্ন—সেখানে ক্ষেত্রবিশেষে পিছিয়ে পড়া দলগুলোর জন্য থাকে বেশি বরাদ্দ, যেন তারা এগিয়ে আসতে পারে।
ফিফার আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস আইসিসির মতোই স্পনসর ও সম্প্রচার স্বত্ব। কিন্তু ছোট্ট একটা পার্থক্য আছে—আইসিসির রাজস্ব যেমন দুই–তিনটি দেশের বাজারের ওপর নির্ভর করে, ফিফার তেমন নয়।
ফিফা নিজেই রাজস্বের মূল উৎস। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে। বিজ্ঞাপন বা স্পনসর থেকে ফিফার আয়টা এতটাই বৈশ্বিক, এখানে নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চল বা দেশ ছড়ি ঘোরাতে পারে না। তাই তো ফিফা হতে পেরেছে এতটা কঠিন আর সুশাসক। আইসিসির বেশির ভাগ স্পনসর প্রতিষ্ঠানই ভারতীয়, এ কারণেই আইসিসিতে ভারতের এত হম্বিতম্বি। ফিফার ক্ষেত্রে তা মোটেই নয়।
এ ছাড়া গঠন আর ক্ষমতার কাঠামো এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চিন্তাধারার পার্থক্যের কারণেও ফিফা আর আইসিসির শক্ত ও দুর্বল শাসক হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এই যেমন ফিফার সংবিধানে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী। অন্যদিকে আইসিসি হচ্ছে সদস্যদেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একধরনের প্রতিনিধি পরিষদ, যেখানে ‘শক্ত’ সিদ্ধান্ত নিতে গেলে প্রয়োজন সদস্যদের সম্মতি—যা প্রায় অসম্ভব।
ফিফা কূটনৈতিক বিবেচনায় রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে চায়, তাই রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপে কঠোর। আইসিসি বরং দেশগুলোর রাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে চলতে চায়।
এসব কারণেই কোনো দেশের ফুটবল ফেডারেশনের ওপর সেখানকার রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে ফিফা। যেটা আইসিসি পারে না।