এমনকি শরিকরা যদি নিজেদের মধ্যে কম-বেশির ব্যাপারে সানন্দে রাজিও থাকেন, তবুও আন্দাজে ভাগ করা যাবে না। কারণ, অনুমানে বণ্টন করলে আবশ্যিকভাবেই কিছুটা কমবেশি হয়ে যায়।
আর গোশতের বিনিময়ে গোশতের পরিমাণে এই কমবেশি হওয়াটা শরিয়তের দৃষ্টিতে সুদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যা সম্পূর্ণ হারাম। ওজন না করে আন্দাজে বণ্টন করলে কোরবানি আদায় হয়ে গেলেও শরিকরা প্রত্যেকেই গুনাহগার হবেন।
ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘গোশত ওজন করেই বণ্টন করতে হবে, অনুমান করে নয়।’ (আলাউদ্দিন হাসকাফি, আদ-দুররুল মুখতার, ৬/৩১৭, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২০০২)
তবে গোশতের বাইরে পশুর অন্যান্য অঙ্গ—যেমন মাথা, পা বা কলিজা বণ্টনের সময় নিখুঁতভাবে ওজন করা জরুরি নয়; এগুলো সংখ্যা বা আন্দাজে ভাগ করা যাবে (ফখরুদ্দিন হাসান ইবনে মনসুর, ফাতাওয়ায়ে কাজিখান, ৩/৩৫১, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২০০৯)
যদি একটি পরিবারের সদস্যরা সবাই মিলে বা একই ঘরের যৌথ খরচে কোরবানি করেন, তবে সেই ঘরের সদস্যদের নিজেদের মধ্যে গোশত ওজন করে বণ্টন করার প্রয়োজন নেই। (মুফতি মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহি, ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া, ১৭/৪২৫, জামিয়া ফারুকিয়া, করাচি, ২০০৯)
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে শরিয়তের নিয়ম মেনে সঠিক পদ্ধতিতে কোরবানির আমল করার তাওফিক দান করুন।



