প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের গত ৯ বছরের (২০১৭ থেকে ২০২৫) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট কিংবা মহামারির সময় পশু কোরবানি কমে। আর এমন পরিস্থিতি না হলে বাড়ে পশু কোরবানির সংখ্যা।
২০১৭ সাল থেকে ঈদুল আজহায় পশু কোরবানি বাড়ছিল। ২০১৯ সালে পশু কোরবানি বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৬ লাখে। তারপর আর এত সংখ্যক পশু কোরবানি হয়নি দেশে।
২০২০ সালে দেখা দেয় করোনা মহামারি। স্বাস্থ্যসংকটের পাশাপাশি তা অর্থনৈতিক সংকটও তৈরি করে। অনেকের আয় কমে যায়, অনেকে চাকরি হারান। তেমন অবস্থায় ২০২০ সালের ১ জুন অনুষ্ঠিত হয় ঈদুল আজহা। আগের বছরের তুলনায় তখন ১১ লাখ ৬৪ হাজার পশু কম কোরবানি হয়।
করোনা মহামারির মধ্যেই ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এই যুদ্ধেরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর ২০২৩ সালের ঈদুল আজহায় প্রায় ১ কোটি ৪২ হাজার পশু কোরবানি হয়। ২০২৪ সালে কোরবানি হওয়া পশুর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। এরপর গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার আমলে ২০২৫ সালের ঈদুল আজহায় কোরবানি হওয়া পশুর সংখ্যা নেমে আসে ৯১ লাখ ৩৬ হাজারে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহজামান খান প্রথম আলোকে বলেন, মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর কোরবানি নির্ভর করে। গত বছর হয়তো মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো ছিল না। এবার গণতান্ত্রিক সরকার আছে, সে কারণে হয়তো কোরবানি বেশি হবে।


