বোনের মৃত্যুর প্রমাণ দিতে কঙ্কাল ব্যাংকে নিয়ে যাওয়ার পর যা ঘটলো | চ্যানেল আই অনলাইন

বোনের মৃত্যুর প্রমাণ দিতে কঙ্কাল ব্যাংকে নিয়ে যাওয়ার পর যা ঘটলো | চ্যানেল আই অনলাইন

ভারতের পূর্বাঞ্চলে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, বোনের সঞ্চয় তোলার জন্য মৃত্যুর প্রমাণ দিতে বাধ্য হয়ে তিনি তার বোনের কঙ্কাল ব্যাংকে নিয়ে যান। ওড়িশা রাজ্যের ৫২ বছর বয়সী জিতু মুন্ডার ব্যাংকে কঙ্কাল নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়, যা ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তিনি জানান, মৃত্যুর সরকারি প্রমাণপত্র দেখাতে না পারায় বারবার চেষ্টা করেও টাকা তুলতে না পেরে হতাশা থেকেই তিনি এমনটি করেছেন।

বুধবার(২৯ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করে।

পুলিশ জানায়, ব্যাংকে নেওয়ার জন্য তিনি তার বোনের দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলন করেন।

তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ ধরনের কোনো দাবি অস্বীকার করে জানায়, তারা কেবল আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রই চেয়েছিল। তারা আরও জানায়, প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতার অভাব থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে এবং পরবর্তীতে অর্থ বৈধ উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মুন্ডার অন্যান্য অভিযোগও অস্বীকার করেছে।

সোমবার কেওনঝাড় জেলায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অনেকেই স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যাংকের সমালোচনা করেন, কারণ তারা ওই ব্যক্তিকে যথাযথ সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

ওড়িশার রাজস্বমন্ত্রী সুরেশ পুজারি জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেওনঝাড় জেলা প্রশাসনও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা তাদের অগ্রাধিকার।

মুন্ডা বিবিসি হিন্দিকে জানান, চলতি বছরের শুরুতে তার ৫৬ বছর বয়সী বোন কালারা মারা যাওয়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, তার বোন দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন এবং স্বামী ও সন্তানের মৃত্যুর পর মায়ের বাড়িতে ফিরে আসেন।

মৃত্যুর কয়েক মাস আগে তিনি তার গবাদিপশু বিক্রি করে প্রায় ১৯,৩০০ রুপি (বাংলাদেশি টাকা প্রায় ২৫,০২৬) ব্যাংকে জমা রাখেন।

মুন্ডা জানান, বোনের মৃত্যুর পর তিনি একাধিকবার ব্যাংকে গেলেও টাকা তুলতে পারেননি।

তিনি বলেন, “ব্যাংক ম্যানেজার যখন আমার কথা শুনছিল না এবং বারবার প্রমাণ চাইছিল, তখন আমি হতাশ হয়ে পড়ি। আমি দেখানোর জন্য কঙ্কাল নিয়ে যাই যে সে মারা গেছে।”

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি একটি বস্তায় মোড়ানো কঙ্কাল নিয়ে ব্যাংকের সামনে গিয়ে সেটি প্রবেশপথের বাইরে রেখে দেন। ভিডিওটি কে ধারণ করেছে তা স্পষ্ট নয়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই মৃত্যুর পর কারও ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনের জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, বিশেষ করে যখন কোনো মনোনীত ব্যক্তি (নমিনি) না থাকে। অন্যরা গ্রামীণ পরিবারের ব্যাংকিং ব্যবস্থার জটিলতা মোকাবিলার সমস্যার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

ভারতে কোনো হিসাবধারী নমিনি নির্ধারণ না করে মারা গেলে, পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুসনদ ও বৈধ উত্তরাধিকার প্রমাণসহ বিভিন্ন কাগজপত্র জমা দিতে হয় যা বিশেষ করে দূরবর্তী গ্রামে সময়সাপেক্ষ হয়ে ওঠে।

সমালোচনার পর, ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনাকারী ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংক জানায়, মৃত ব্যক্তিকে সরাসরি উপস্থিত করার দাবি করা হয়েছিল এমন খবর সঠিক নয়।

ব্যাংক জানায়, মুন্ডাকে প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা অনুসরণ করেননি। এছাড়া, তারা অভিযোগ করে যে, তিনি প্রথমে মদ্যপ অবস্থায় ব্যাংকে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং পরে দেহাবশেষ নিয়ে ফিরে আসেন, যা তারা “কষ্টদায়ক” পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করে।

শাখা ব্যবস্থাপক সুশান্ত কুমার সেঠি বিবিসি হিন্দিকে জানান, প্রথমে মুন্ডা বলেছিলেন তার বোন পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং ব্যাংকে আসতে অক্ষম, তখন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে তিনি জানান, তার বোন মারা গেছেন।

সেঠি আরও বলেন, মুন্ডা গত দুই মাসে ব্যাংকে আসেননি এবং অন্য উত্তরাধিকারীরাও অর্থ দাবি করতে এগিয়ে এসেছেন, যার ফলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে মুন্ডাকে দেহাবশেষ পুনরায় সমাধিস্থ করতে রাজি করায় এবং তার আবেদন নিষ্পত্তির আশ্বাস দেয়। তাকে সহায়তা হিসেবে ৩০ হাজার রুপিও দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বুধবারের মধ্যে প্রশাসন মৃত্যুসনদ ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রদান করে এবং ব্যাংক জানায়, অর্থ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Scroll to Top