২. কেয়ামতের দিনের আফসোসের কথা আছে কোরআনে, ‘হায় আফসোস, আল্লাহর ব্যাপারে আমি যে গাফিলতি করেছি। আর আমি তো উপহাসকারীদের একজন ছিলাম।’ (সুরা জুমার, আয়াত: ৫৬)
এখানে ‘হাসরাহ’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যার অর্থ এমন গভীর আফসোস, যা কোনোভাবেই দূর করার সুযোগ নেই। এরপর বলা হয়েছে, আমি তো উপহাসকারীদের একজন ছিলাম। অর্থাৎ সে শুধু নিজে আমল করেনি তা-ই নয়, যারা আমল করত তাদের নিয়েও উপহাস করত। সেই উপহাসই কেয়ামতের দিন গভীর অনুতাপের কারণ হবে।
৩. মৃত্যুর আগমুহূর্তে মানুষের একমাত্র চাওয়া সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘যখন তাদের কারো কাছে মৃত্যু আসে, সে বলে, হে আমার প্রতিপালক, আমাকে আবার দুনিয়াতে পাঠান। যেন আমি দুনিয়াতে যে সৎকাজ ছেড়ে এসেছি, তা করতে পারি।’ (সুরা মুমিনুন, আয়াত: ৯৯-১০০)
মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষ অর্থ, সম্মান কিংবা দীর্ঘ জীবন চাইবে না। সে চাইবে শুধু আরেকটু সময়—শুধু নেক আমল করার জন্য।
এখানে আরবিতে বলা হয়েছে, ‘লাআল্লি আমালু সালিহান’ মানে হয়তো আমি সৎকাজ করব। ‘হয়তো’ শব্দটি ইঙ্গিত দেয় যে আমল করার ব্যাপারে সে নিজেও নিশ্চিত নয়, তবু আরেকটি সুযোগ চায়। কিন্তু এখন সেই সুযোগ আর নেই।
অথচ আমরা এখন সেই সুযোগের মধ্যেই আছি। ভালো কাজ করার দরজা এখনো আমাদের জন্য খোলা।
৪. ফিরে আসার সময় এখনই। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘আর তোমাদের প্রতিপালকের দিকে ফিরে এসো এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করো, শাস্তি আসার আগেই। এরপর আর তোমাদের সাহায্য করা হবে না।’ (সুরা জুমার, আয়াত: ৫৪)
এখানে আরবিতে ‘আনাবা’ বলা হয়েছে, যার মানে বারবার ফেরা। মানুষ যতবার ভুল করবে, ততবারই আল্লাহর দিকে ফিরে আসবে।
তবে তা শাস্তি আসার আগেই। অর্থাৎ মৃত্যু বা শাস্তি এসে যাওয়ার পর আর সুযোগ থাকবে না।
৫. দোজখবাসীদের ফিরে আসার আকুতি। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘আর তারা সেখানে চিৎকার করে বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের বের করে দিন। আমরা আগে যা করতাম, তার পরিবর্তে সৎকাজ করব।’ (সুরা ফাতির, আয়াত: ৩৭)



