সিএমএল চিকিৎসা কি কেমোথেরাপি নির্ভর নাকি আধুনিক আরও চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে? উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. এ যুবায়ের খান বলেন, ‘আমাদের দেশে সিএমএল আগে খুব জটিল ক্যানসার ছিল। কিন্তু টার্গেটেড থেরাপি বা টাইরোসিন কাইনেস ইনহিবিটর (টিকেআই) ওষুধ আসার পর এটা সহজ হয়ে গেছে। কারণ, দেশেই এ ট্যাবলেট তৈরি হয়। এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। কেউ যদি নিয়মিত এই ট্যাবলেটটা সেবন করে, তাহলে সে একদমই সাধারণ মানুষের মতো সুস্থ জীবনযাপন করে। মাঝেমধ্যে শুধু ফলোআপ করাতে হবে। যদি একেবারে নিরাময় চায়, সে ক্ষেত্রে বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন ছাড়া বিকল্প নেই। এ ছাড়া কিছু নতুন ট্রিটমেন্ট ট্রায়ালে আছে। তার মধ্যে সেলুলার থেরাপি ও জিন থেরাপি উল্লেখযোগ্য।’
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টের সুযোগ ও সীমাবদ্ধতাগুলো প্রসঙ্গে ডা. এ যুবায়ের খান বলেন, ‘দেশের মানুষ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চিকিৎসার জন্য নিজের পকেটের টাকা খরচ করে। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭৬ শতাংশ চিকিৎসার খরচ নিজেরাই বহন করে। ওষুধের দামও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বেশি। সেই অর্থে বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন সারা পৃথিবীতেই ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। তারপরও আমাদের দেশে দুটি ট্রান্সপ্ল্যান্ট নিয়মিত হয়। একটি হচ্ছে বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট, আরেকটি রেনাল ট্রান্সপ্ল্যান্ট, যা দেশের প্রায় সাতটি সেন্টারে হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগে ২০১৪ সালে বাংলাদেশে প্রথম ট্রান্সপ্ল্যান্ট শুরু হয়েছিল।’
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপস্থাপক জানতে চান, একজন সিএমএল রোগী ও তাঁর পরিবারের প্রতি চিকিৎসকের পরামর্শ কী? উত্তরে ডা. এ যুবায়ের খান বলেন, ‘যদি আপনার সিএমএল ক্যানসারের উপসর্গ থাকে তাহলে টেস্ট করেই দ্রুত নিশ্চিত হোন। কারণ দেরি হলে সেটি অ্যাডভান্স স্টেজে চলে যেতে পারে। চিকিৎসক ওষুধ দিলে সেটি নিয়মিত খাবেন। ওষুধে ক্যানসার সারবে না, ডায়াবেটিসের মতো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। যেহেতু বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট ব্যয়বহুল, তাই ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি সঞ্চয় করুন। সামর্থ্যবান হওয়া মাত্রই ট্রান্সপ্ল্যান্ট করে একেবারেই নিরাময় করুন।’



