বেইলি রোডে আগুন: ভিকারুননিসার শিক্ষক ও মেয়ের মৃত্যু | চ্যানেল আই অনলাইন

বেইলি রোডে আগুন: ভিকারুননিসার শিক্ষক ও মেয়ের মৃত্যু | চ্যানেল আই অনলাইন

রাজধানীর বেইলি রোডের বহুতল ভবনের আগুনে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাতী শাখার শিক্ষক লুৎফুন নাহার লাকি ও তার মেয়ে নিকিতা মারা গেছেন।

নিহত ৪৫জনের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন মারা গেছেন। এর মধ্যে মা ও দুই শিশু রয়েছে। এছাড়াও পুলিশের এক সদস্যের মেয়েসহ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

বুয়েট শিক্ষার্থীদের নাম লামিশা ইসলাম ও নাহিয়ান আমিন। লামিসা বুয়েটের মেকানিক্যাল বিভাগের শিক্ষার্থী। আর নাহিয়ান একই ব্যাচের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী। নাহিয়ান বরিশালের ছেলে। তবে লামিশার ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যায়নি।

দুই সন্তান আয়ান (৮) ও আয়াতকে (৬) নিয়ে স্বামীর সঙ্গে বেইলে রোড এলাকায় থাকতেন নাজিয়া আক্তার (৩১)। তার স্বামী মো. আশিক পেশায় ব্যবসায়ী।

Reneta April 2023

দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে ওই ভবনের তৃতীয় তলার একটি রেস্তোরাঁয় খেতে যান নাজিয়া। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্বামীকে ফোন দিয়ে ঘটনা জানান। পরে তৃতীয় তলার সিঁড়ি থেকে আয়ানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আগুনে নাজিয়া ও আয়তও মারা যায়। ঢাকা মেডিকেলের মর্গে তাদের মরদেহ রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাতী শাখার শিক্ষক লুৎফুন নাহার লাকি ও তার মেয়ে নিকিতার মরদেহ  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসে। এ সময় স্ত্রী-মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন গোলাম মহিউদ্দিন।

বৃহস্পতিবার রাত ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে ৪৪ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন: মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় আমাদের পুলিশের এক সহকর্মীর মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে তার মরদেহ রয়েছে।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী বেইলি রোডে আগুনের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৫ জনে হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় জুয়েল নামে আরও একজন মারা গেছেন। শুক্রবার (১ মার্চ) ঢাকা জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে মোস্তফা আব্দুল্লাহ আল নুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, বেইলি রোডের আগুনের ঘটনায় রাতে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে মারা যান তিনি। এই নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৪৫ জনে। এছাড়া শনাক্তের পরিপ্রেক্ষিতে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর চলমান রয়েছে।  এখন পর্যন্ত ৩৯ জনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্ত হয়নি ছয় জনের মরদেহ।

ভোর ৫টা ৪১ মিনিটে রাজধানীর বেইলি রোডের বহুতল ভবনে আগুনে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার পর থেকে ঢাকা জেলা প্রশাসন লাশ হস্তান্তরের জন্য নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের তথ্য চান। তথ্য সংগ্রহসাপেক্ষ মরদেহ শনাক্তের পর লাশ হস্তান্তর শুরু হয়।

লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। রাতেই ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে নিহত ব্যক্তিদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পুলিশ। এরপর মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে বেইলি রোডের একটি বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলায় ‘কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্ট’ এ আগুন লাগে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিটের চেষ্টায় দুই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও এখনও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করেছে র‌্যাব, বিজিবি, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা।

Scroll to Top