বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ২০২৫ সালের নির্বাচনে অনিয়ম, কারসাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের স্বাধীন তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ‘সরকারি হস্তক্ষেপ’ হিসেবে গণ্য করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিসিবি।
এই কমিটি গঠন করায় বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হতে পারে জানিয়ে সোমবার রাতে এক বিবৃতি দিয়েছে বিসিবি। দেশের ক্রিকেটের অভিবাবক সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান বোর্ড যথাযথভাবে নির্বাচিত এবং সম্পূর্ণরূপে কার্যকর সংস্থা, যা এটির গঠনতন্ত্র এবং প্রতিষ্ঠিত প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী কাজ করছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এই বোর্ড বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বোত্তম স্বার্থে দায়িত্ব পালন ও কার্যভার পালন অব্যাহত রেখেছে।’
‘ওপরে উল্লিখিত গেজেট জারি করায় উল্লেখযোগ্য উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ এটি বিসিবির নির্বাচিত প্রশাসনের স্থিতিশীলতা, স্বাধীনতা এবং ধারাবাহিকতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বৈশ্বিক শাসন কাঠামোর মধ্যে কাজ করে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) পূর্ণ সদস্য। আইসিসির শাসন কাঠামোর অধীনে, নির্বাচিত ক্রিকেট বোর্ডের বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপ হিসাবে বিবেচিত যে কোন পদক্ষেপকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয় এবং আইসিসির শাসন এবং সম্মতি বিধানের আওতায় পর্যালোচনা উসকে দিতে পারে।’
‘এসবের প্রেক্ষাপটে, আইসিসির সিনিয়র প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনায় বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে আভাস মিলেছে যে, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ক্রিকেট বোর্ডের ওপর হস্তক্ষেপ হিসাবে গণ্য হতে পারে, এমন কোন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাঠামোর মধ্যে শাসন প্রক্রিয়াগত উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।’
বিসিবি অবশ্য এরপর উল্লেখ করেছে, এনএসসির সঙ্গে আগে আলোচনা করে সমাধানকেই তারা যথাযথ পথ মনে করে।
‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা বিবেচনা করে, যথাযথ সতর্কতা এবং স্বচ্ছতার সাথে বিষয়টি মোকাবেলা করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে বিসিবি। আইসিসির সাথে কোনও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বা কার্যক্রম শুরু করার আগে, বিসিবি বিশ্বাস করে যে গেজেটের প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য প্রভাব স্পষ্ট করে তুলে ধরার জন্য সরাসরি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সাথে যোগাযোগ করাই উপযুক্ত।’
এনএসসিসহ জাতীয় সংস্থাগুলোকে বিসিবি সহায়তা করতে মুখিয়ে আছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি এনএসসিকে তারা অনুরোধ করেছে বিষয়টি গ্রহণযোগ্যভাবে সমাধানের জন্য।
‘সংশ্লিষ্ট সকল জাতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে গঠনমূলক যোগাযোগের জন্য বিসিবি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ক্রিকেট প্রশাসন মান অনুযায়ী নির্বাচিত ক্রিকেট প্রশাসনের স্বায়ত্তশাসন সংরক্ষণ করাও অপরিহার্য।’
‘সেই অনুযায়ী, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে এই বিষয়টি বিসিবি এমনভাবে নিষ্পত্তি করার অনুরোধ করেছে, যাতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্থিতিশীলতা, স্বাধীনতা এবং অব্যাহত অগ্রগতি অটুট থাকে, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্প্রদায়ের মধ্যে দেশের অবস্থান সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত থাকে।’
কদিন আগে তামিম ইকবাল ও তার সমমনা ক্রিকেট সংগঠকরা অভিযোগ দায়ের করেন এনএসসিতে। সেটির পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে এনএসসি। ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।




