
ফিফা বিশ্বকাপ ও এএফসি এশিয়ান কাপে খেলার জন্য বাছাইপর্বে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। গত ডিসেম্বরে এমন প্রতিযোগিতা চালু করার কথা ঘোষণার হয়েছিল। এএফসি মঙ্গলবার ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ২০৩০ সাল থেকে দ্বিবার্ষিক ‘নেশনস লিগ’ চালুর প্রস্তাব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে যাচ্ছে। এমন খরব জানাচ্ছে, জনপ্রিয় ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন।
এএফসি’র নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী আসরের জন্য কনফেডারেশনের দলগুলোকে তিনটি টায়ারে ভাগ করা হবে। প্রথম দুটি টায়ারে ১৮টি করে মোট ৩৬টি দল এবং তৃতীয় টায়ারে ১১টি দলকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট সংস্করণগুলোর মধ্যে প্রথম আসরটি ২০৩২-৩৩ সালে অনুষ্ঠিত হবে। দলগুলো হোম ও অ্যাওয়ে মিলিয়ে ছয়টি করে ম্যাচ খেলবে এবং প্রথম টায়ারের শীর্ষে থাকা ছয় দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পাবে।
প্রথম টিয়ারে ৭ম-দশম স্থান অর্জনকারী দলগুলো বাকি দুটি স্লটের জন্য একটি রবিন-রৌন্ড প্লে-অফে অংশ নেবে, যার মধ্যে সেরা দুটি দল সরাসরি বিশ্বকাপে যাবে এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী দল আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে লড়বে। ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ব্যবহৃত আগের সংস্করণে তৃতীয় পর্বে উত্তীর্ণ ১৮টি দলকে ছয়টি করে দল নিয়ে তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হতো, যেখানে প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সরাসরি এবং পরবর্তী সেরা দুটি দল চতুর্থ ধাপের প্লে-অফে অংশ নিতো।
এশিয়ান কাপের সাথে মিল রেখে প্রস্তাবিত নেশনস লিগের প্রথম আসরটি ২০৩০ সালে অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলগুলো হোম ও অ্যাওয়ের ভিত্তিতে তিনটি করে ম্যাচ খেলবে। পাশাপাশি এশিয়ান কাপের মূল আসরটি ২০৩১ থেকে পিছিয়ে ২০৩২ সালে নেয়া হবে। এই সংস্করণে প্রথম টায়ারের প্রতিটি দল এবং দ্বিতীয় টায়ারের শীর্ষ ছয়টি দল সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করবে। টুর্নামেন্ট যাই হোক না কেন, প্রথম টায়ারের শীর্ষ আট দল একটি নকআউট পর্বে উন্নীত হবে এবং হোম ও অ্যাওয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের পর সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচ একটি ভেন্যুতে হবে।
প্রতিটি দ্বিবার্ষিক টুর্নামেন্টের শেষে শীর্ষ এবং তলানির দুটি দলের মধ্যে সরাসরি পদোন্নতি ও অবনতি কার্যকর হবে এবং উচ্চতর টায়ারের তলানির দিক থেকে পরবর্তী চারটি দল ও নিচের টিয়ারের সেরাদের দিক থেকে পরবর্তী চারটি দলের মধ্যে প্লে-অফের মাধ্যমে আরও দলের স্থান পরিবর্তন নির্ধারিত হবে। এই প্রস্তাবে কোনো আঞ্চলিক বা জোনাল বিভাজন রাখা হয়নি।
কারণ এএফসি অঞ্চলের ভিত্তিতে দলসংখ্যার অসমতা এবং প্রতিযোগিতার মানের তারতম্যের কথা উল্লেখ করেছে; এর পরিবর্তে ড্রয়ের সময় দলগুলোকে পটে রেখে সুষম ও অ্যালগরিদমিক উপায়ে ফিক্সচার তৈরি করা হবে। খরচ ও পর্যাপ্ত ম্যাচ দিনের অভাবের আশঙ্কায় এশিয়ান ও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সাথে সম্পর্কহীন একটি একক টুর্নামেন্ট চালুর ভাবনা বাতিল করা হয়েছে।
এই নতুন ব্যবস্থা সহজ করতে এএফসি ২০২৮-২৯ সালে একটি পাইলট টুর্নামেন্ট চালুর প্রস্তাব করেছে, যেখানে প্রথম অফিসিয়াল আসরের জন্য দলগুলোর ফিফা র্যাংকিংয়ের পরিবর্তে প্রাথমিক যৌথ বাছাইপর্বের ফলাফলকে ভিত্তি করে টায়ারগুলো নির্ধারণ করা হবে। এই পাইলটের সময় বর্তমান বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ফরম্যাট (প্রথম টিয়ারে ছয়টি দল নিয়ে তিনটি গ্রুপ) বহাল রাখা হবে এবং প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল ২০৩০ সালের টুর্নামেন্টে উঠবে।
তবে ২০২৬ ফরম্যাটের তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানাধিকারীর পরিবর্তে পরবর্তী সেরা চারটি দল চূড়ান্ত মডেলের আদলে প্লে-অফ খেলবে, যেখান থেকে সেরা দুটি দল বিশ্বকাপে যাবে এবং তৃতীয় সেরা দল আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে লড়বে। ২০৩০ সালের প্রথম অফিসিয়াল নেশনস লিগের টিয়ারগুলোর সঠিক বিন্যাস নিশ্চিত করতে এই পাইলট আসরেও স্বয়ংক্রিয় পদোন্নতি-অবনতি এবং প্লে-অফ চালু রাখা হবে।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…


