সাবেক উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মী আদিলুর রহমান খানকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হয়রানির অভিযোগ তুলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে অধিকারের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ বিবৃতি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

সংগঠনটি জানায়, গত ২ মার্চ নেপালের জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত হলে ইমিগ্রেশনে দায়িত্বরত স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাকে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রেখে হয়রানি করে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে একটি সাধারণ ডায়েরি এন্ট্রির মাধ্যমে তাকে বহির্গমনের ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
অধিকার আরও দাবি করে, কয়েকটি পত্রিকায় আদিলুর রহমান খান কূটনৈতিক লাল পাসপোর্ট ব্যবহার করায় জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। সংগঠনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তার লাল পাসপোর্ট বাতিল করেছেন এবং নেপাল যাত্রার সময় সাধারণ পাসপোর্ট বহন করে সাধারণ গেট ব্যবহার করেই ইমিগ্রেশনে যান।
বিবৃতিতে বলা হয়, কর্তৃত্ববাদী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় আদিলুর রহমান খান বিদেশ যাত্রার সময় বারবার ইমিগ্রেশনে হয়রানির শিকার হতেন। বর্তমান সময়েও এ ধরনের আচরণ উদ্বেগজনক ও অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
অধিকার মনে করে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের অধীনে মানবাধিকার কর্মীদের প্রতি এ ধরনের হয়রানি গ্রহণযোগ্য নয়। সংগঠনটি আরও দাবি জানায়, পূর্ববর্তী সময়ে যেসব মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দরে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল, তা বর্তমান সরকারকে দায়িত্ব নিয়ে প্রত্যাহার করতে হবে।
নেপালের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ শেষে আদিলুর রহমান খান দেশে ফিরবেন বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাকেসহ সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যেন কোনো ধরনের হয়রানি না করা হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে অধিকার।





