বিএনপির প্রতিশ্রুতি ছিল জনগণের সরকারের, বাস্তবে গড়ে উঠছে অলিগার্কদের সরকার: নাহিদ ইসলাম

নাহিদের বিবৃতির চতুর্থ বিষয় ‘উৎপাদিত সংকট’। এতে বলা হয়, একটি নিখুঁত ছক দাঁড়াচ্ছে: সরকারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ করতে না দাও, সংকট তৈরি হোক, বলো সরকারি খাত পারছে না, বেসরকারি অলিগার্কের হাতে লাইসেন্স তুলে দাও। বিদ্যুৎ বিতরণেও একই কৌশল। ভুতুড়ে বিল ও জালিয়াতির অভিযোগ, তারপর বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারীকরণের যুক্তি। পেছনে একটাই উদ্দেশ্য—কমিশন ও রেন্ট সিকিং (অনুপার্জিত মুনাফাখোরি)।

পঞ্চম বিষয় ‘যুদ্ধের একমুখী অজুহাত টেকে না’। এই অংশে নাহিদ বলেন, এই মুহূর্তে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ লোডশেডিং চলছে। সরকার দায় চাপাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ওপর। কিন্তু পিজিসিবির (পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি) তথ্য বলছে, যুদ্ধ শুরুর আগেই সংকট তৈরি হয়ে গিয়েছিল। যুদ্ধ একমাত্র কারণ নয়।

বিবৃতির ষষ্ঠ বিষয়ের শিরোনাম ‘মহেশখালীর আগুন এবং জাতীয় সক্ষমতার প্রশ্ন’। এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগে। এতে দৈনিক ৫১ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। আংশিক সরবরাহ ফিরে আসে ১৫ দিন পর, ৫ আগস্ট। এখানে প্রশ্ন দুটি—এক. রক্ষণাবেক্ষণে ত্রুটি ছিল কি না, তার স্বাধীন তদন্ত হয়েছে কি, হলে প্রতিবেদন কোথায়; দুই. দেশের গ্যাস সরবরাহের এক-চতুর্থাংশ যে দুটি টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল, তার একটি বসে গেলে ১৫ দিন লাগল আংশিক পুনরুদ্ধারে—এই ডিজাস্টার রিকভারি সক্ষমতা কি একটি রাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য?

Scroll to Top