বিএনপির ইশতেহারে ক্রীড়া বিষয়ে যা আছে | চ্যানেল আই অনলাইন

বিএনপির ইশতেহারে ক্রীড়া বিষয়ে যা আছে | চ্যানেল আই অনলাইন

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে দুই দশক পর সরকার গঠনের সুযোগ পেলে বিএনপি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কী কী করবে, সেই ফর্দ জাতির সামনে তুলে ধরেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। যাতে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে জোর দেয়া হয়েছে ক্রীড়াঙ্গনের পরিকল্পনাতেও।

ঘোষিত ইশতেহারে বলা হয়েছে, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রমে ৪র্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির মাধ্যমে ১২-১৪ বছরের প্রতিভাবান ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, ৪৫০টি উপজেলায় মানসম্পন্ন ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ ও ৬৪ জেলায় ইনডোর সুবিধাসম্পন্ন স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করার কথা বলা হয়েছে।

দেশের সব উপজেলায় ক্রীড়া অফিসার ও ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ করা, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে বিষয়ভিত্তিক ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ করা, প্রত্যেক বিভাগীয় শহরে বিকেএসপি’র শাখা প্রতিষ্ঠা করা, সকল মহানগরসহ দেশের গ্রামীণ জনপদে খেলার মাঠের সুব্যবস্থা করা, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এবং সুবিধা বঞ্চিতদের খেলার সুযোগ নিশ্চিত করাসহ দেশে ক্রীড়া সরঞ্জাম ইন্ডাষ্ট্রি স্থাপন করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে ইশতেহারে।

ওয়ার্ড-ভিত্তিক মাঠ তৈরি ও মাঠ দখলমুক্তকরণ: ঢাকা শহরে ওয়ার্ড-থানা ভিত্তিক খেলার মাঠ তৈরি করার পরিকল্পনা নেয়া, সম্ভব হলে দুটি ওয়ার্ডের মাঝে একটি মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং বেদখল হওয়া খেলার মাঠগুলোকে পুনরুদ্ধার করার কথা বলা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুদৃঢ় অবস্থান তৈরিতে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ: ২০৩০ সালের মধ্যে খেলাধুলার কয়েকটি ক্ষেত্রে বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশ যাতে একটি গ্রহণযোগ্য স্থান করে নিতে পারে সে লক্ষ্যে পরিকল্পিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার পাশাপাশি মাল্টি গেমস ইভেন্ট যেমন- সাউথ এশিয়ান গেমস, এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস, অলিম্পিক গেমস ইত্যাদিতে বাংলাদেশের সম্মানজনক স্থান অর্জনের জন্য দেশে একটি আধুনিক জাতীয় অলিম্পিক একাডেমি প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা রয়েছে ইশতেহারে।

‘ট্যালেন্ট হান্ট’ স্কিম প্রচলন: স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রীড়াক্ষেত্রে ‘ট্যালেন্ট হান্ট’ স্কিম চালু করা, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদদের সম্মানজনক জাতীয় পুরস্কার দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

নারী ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিকরণ: ক্রীড়াঙ্গনে নারী ক্রীড়াবিদদের হয়রানি নিরসণ এবং তাদের জন্য সকল প্রকার আধুনিক সুযোগ সুবিধা-নিরাপত্তা প্রদানের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

ক্রীড়াঙ্গনে দলীয় হস্তক্ষেপ বন্ধকরণ: ক্রীড়াঙ্গন ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে সঠিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠাকল্পে দলীয় হস্তক্ষেপ বন্ধ করার উল্লেখ রয়েছে।

অবকাঠামো উন্নয়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিকরণ: ক্রীড়া ও খেলাধুলার উন্নয়নের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষক, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও ক্রীড়া সরঞ্জামাদি সংগ্রহের জন্য সরকারী ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করাসহ ব্যাংক ও বেসরকারি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রীড়া ও খেলাধুলার মান উন্নয়নকে তাদের কর্পোরেট সোস্যাল রেসপনসিবিলিটির অন্তর্ভুক্ত করতে আরও উৎসাহিত করার উল্লেখ রয়েছে।

ক্রীড়ার অন্যান্য খাতে পেশাদার লিগ চালুকরণ: ক্রিকেট ও ফুটবলের পাশাপাশি হকি, বাস্কেটবল, ভলিবল, দাবা ও অন্যান্য খেলায়ও পেশাদার লিগ চালু করা হবে।

জাতীয় স্পোর্টস রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা: একটি জাতীয় স্পোর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে যা বৈজ্ঞানিক গবেষণা, আধুনি প্রযুক্তি, এবং ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবহার করে খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।

‘স্পোর্টস ইকোনমি সম্প্রসারণ: স্পোর্টস ইকোনমি সম্প্রসারণ ও উৎসাহ প্রদান করা, ক্রীড়াঙ্গন যাতে দেশের অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজন করতে পারে সে লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে।

‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসিতে গুরুত্বারোপ: খেলাধুলার মান উন্নয়নের জন্য ক্রীড়ায় অগ্রবর্তী দেশ/আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পিপল-টু-পিপল সম্পর্ক বৃদ্ধির ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসি’তে গুরুত্বারোপ করা, দেশে আম ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার উল্লেখ রয়েছে।

Scroll to Top