জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের অপারেশন থিয়েটার থেকে ক্যামেরা, সুতাসহ মুল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম চুরি হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালের বার্ন ওটি থেকে এসব প্রয়োজনীয় ও মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি হয়। তবে চুরি প্রায় দুই সপ্তাহ পরে গত ১১ মার্চ এ বিষয়ে রাজধানীর শহাবাগ থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে দুটি অপরেশন থিয়েটার (ওটি) রয়েছে, একটি বার্ন ওটি অন্যটি প্লাস্টিক সার্জারি ওটি। বার্ন ওটি থেকে এসব মালামাল চুরি হয়েছে। এরমধ্যে একটি ক্যামেরা রয়েছে যার বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। বিপুল পরিমান সুতা চুরি হয়েছে। এগুলো বিশেষ ধরনের অস্ত্রপচারের সুতা যেগুলো বার্ন রোগীদের অস্ত্রপচারে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া আরও আনেক সরঞ্জাম চুরি হয়েছে, এবং এসব চুরি হয়েছে দফায় দফায়, যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করছে না।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এই হাসপাতালে এর আগেও কয়েকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে সবসময় বিষয়গুলো ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। ফলে হাসপাতালের মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি এখানে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
এবারের চুরির বিষয়টি হাসপাতালে বিভিন্ন পর্যায়ে জানাজানি হলে পরিচালক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক কাজী ইমরানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাজী ইমরান বলেন, তারা তদন্ত করছেন। ইতিমধ্যে চুরি যাওয়া চিকিৎসা সরঞ্জামের একটি তালিকা করা হয়েছে। বিষযটি তদন্তাধীন থাকায় তিনি মন্তব্য করতে অপরগতা প্রকাশ করেন।
চুরির বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন বলেন, কিছু সরঞ্জাম চুরি হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে তিনি তালিকা প্রদানে অনিহা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট প্রদান করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তাই এখনও আইনী বা প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, চুরির ঘটনা আরও আগের। বুধবার হাসপাতালের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে। আমরা অভিযোগটি তদন্ত করছি।




