বারবার যুদ্ধ আর রাজনীতির শিকার জ্বালানি তেল

বারবার যুদ্ধ আর রাজনীতির শিকার জ্বালানি তেল

একুশ শতকের শুরু থেকেই বিশ্ব রাজনীতির দাবা খেলায় সবচেয়ে বড় ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে ‘কালো সোনা’ খ্যাত জ্বালানি তেল। কখনও যুদ্ধ, কখনও মহামারি, আবার কখনও অর্থনৈতিক মন্দা- জ্বালানি তেলের বাজার যেন এক রোমাঞ্চকর থ্রিলার সিনেমাকেও হার মানায়।

বারবার যুদ্ধ আর রাজনীতির শিকার জ্বালানি তেল

সম্প্রতি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর তেলের দাম আবারও ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে কম্পন শুরু হয়েছে।

চলুন দেখে নেয়া যাক, গত দুই দশকে তেলের বাজারের সেই নাটকীয় উত্থান-পতনের ইতিহাস।

২০০৮ সালের ১১ জুলাই দিনটি তেলের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। চীনের ব্যাপক চাহিদা আর ইরানের অস্থিরতার সুযোগে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ১৪৭.৫০ ডলারে পৌঁছায়। এটিই ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ দাম। তখন মনে হচ্ছিল, তেলের দাম বুঝি ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে!

২০১১ সালে তিউনিসিয়া, মিশর ও ইয়েমেনে আরব বসন্তের প্রভাবে তেলের বাজারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের প্রভাবে দাম পৌঁছায় ১২৭ ডলারে। এরপর ২০১২ সালে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে তেলের দাম দীর্ঘ সময় ১০০ ডলারের উপরে স্থিতিশীল ছিল। তবে ২০১৪ সালে মার্কিন ‘শেল অয়েল’ বাজারে আসতেই তেলের দাপট হু হু করে ৫০ ডলারের নিচে নেমে যায়।

তেলের ইতিহাসের সবচেয়ে নাটকীয় ও হাস্যকর ঘটনা ঘটে ২০২০ সালে। করোনা মহামারিতে পুরো বিশ্ব যখন ঘরবন্দি, তখন তেলের চাহিদা নেমে আসে শূন্যে। অবস্থা এমন দাঁড়ায়, তেল রাখার জায়গা না থাকায় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তেলের দাম মাইনাসে (-৪০.৩২ ডলার) নেমে যায়। অর্থাৎ, বিক্রেতারা ক্রেতাকে উল্টো টাকা দিয়ে বলছিলেন, দয়া করে আমার তেলটুকু নিয়ে যান!

২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করলে জ্বালানি সংকট আবারও তীব্র হয়। তখন ডব্লিউটিআই তেলের দাম ১৩০ ডলারে পৌঁছায়। আর এখন, ২০২৬ সালে এসে ইরানের ওপর সরাসরি সামরিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে তেলের বাজার আবারও উত্তাল।

মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই ইতিমধ্যেই ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। যদি ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হয় এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যায়, তবে তেলের দাম ২০০৮ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ইরান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই শেষ হবে’, ট্রাম্পের আশ্বাসে বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাবইরান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই শেষ হবে’, ট্রাম্পের আশ্বাসে বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

গত দুই দশকে দেখা গেছে, তেলের দাম যতটা না অর্থনীতির ওপর নির্ভর করে, তার চেয়ে বেশি নির্ভর করে যুদ্ধের বারুদ আর রাজনীতির ওপর। ইরান সংকটের এই ‘অগ্নিপরীক্ষা’য় তেলের বাজার শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

Scroll to Top