বাবার অনুপ্রেরণায় মানবসেবায় আশিকুর, সংগঠন গড়ে দাঁড়িয়েছেন মানুষের পাশে

বাবার অনুপ্রেরণায় মানবসেবায় আশিকুর,  সংগঠন গড়ে দাঁড়িয়েছেন মানুষের পাশে

‘আশিকুরের জন্য এত কিছু পাইছি’

স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী সন্তানকে রেখে ছয় বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান হাজিপাড়া গ্রামের রিকশাচালক মমিনুল ইসলাম। অথই সাগরে পড়েন স্ত্রী রেহেনা খাতুন। তখন তাঁর বাড়িতে ছুটে যান আশিকুর। সংগঠনের তহবিল থেকে তাঁকে একটি সেলাই মেশিন কিনে দেন। এখন বাড়িতে বসে পোশাক তৈরি করে রেহেনা মাসে ১০ হাজার টাকা আয় করছেন। ছয়টি ছাগল ও দুটি গাভিও আছে তাঁর। মেয়ে মনিরা স্কুলে পড়ছে।

আশিকুরের সহায়তায় জীবিকা খুঁজে পেয়েছেন তেঁতুলতলা গ্রামের মাজেদা বেগম। ছেলে নেই, দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। পাঁচ বছর আগে দিন কাটত অনাহারে। খবর পেয়ে আশিকুরের সংগঠনের সদস্যরা তাঁকে ২০টি হাঁস-মুরগি কিনে দেন। সেগুলো লালন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন মাজেদা। ছোট্ট একটি মুরগির খামার করেছেন। মাজেদা বলেন, ‘সেই কষ্ট আর নেই। আল্লায় দিলে শান্তিতে আছি।’

অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারেন না এমন লোকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে ১ থেকে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলে জানালেন ‘গ্রামীণ সাহায্য সংস্থার’ স্বাস্থ্য সম্পাদক নিলয় সরদার। তিনি বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে সংগঠনের সদস্যরা তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যান। এ পর্যন্ত ১৫০ জনকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাঁচজন প্রতিবন্ধীকে হুইলচেয়ার, দেড় শতাধিক নারীকে হাঁস-মুরগি, ১২ জনকে সেলাই মেশিন দেওয়ার পাশাপাশি দুই শতাধিক শিক্ষার্থী শিক্ষা উপকরণ পেয়েছেন।

Scroll to Top