বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে ভারতীয় তুলা রপ্তানিকারকরা উদ্বিগ্ন – DesheBideshe

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে ভারতীয় তুলা রপ্তানিকারকরা উদ্বিগ্ন – DesheBideshe

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে ভারতীয় তুলা রপ্তানিকারকরা উদ্বিগ্ন – DesheBideshe

নয়াদিল্লি, ১১ ফেব্রুয়ারি – যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা নিয়ে তা ব্যবহার করে পোশাক তৈরি করে রপ্তানি করলে বাংলাদেশকে কোনো শুল্ক দিতে হবে না। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই শর্তে চুক্তি হওয়ার পর ভারতের পোশাক রপ্তানিকারকরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে ভারতের তুলা শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে, কারণ আগে ভারত থেকে বাংলাদেশ বেশি তুলা বিক্রি করতো; এখন ঢাকা মার্কিন তুলার দিকে ঝুঁকবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র ১৯ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক আরোপের পর ভারতীয় ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধার আশা করছিলেন। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যে ১৮ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিতে বলা হয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য নতুন একটি ব্যবস্থা শুরু করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো নির্দিষ্ট কিছু তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য কোনো আমদানি শুল্ক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। তবে কতটুকু পণ্য বিনা শুল্কে পাঠানো যাবে তা নির্ভর করবে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে কতটুকু টেক্সটাইল কাঁচামাল যেমন—তুলা বা কৃত্রিম সুতা আমদানি করছে তার ওপর। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র থেকে যত বেশি কাঁচামাল কেনা হবে, তার অনুপাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য বিনা শুল্কে রপ্তানি করতে পারবে বাংলাদেশ।”

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ২০২৪-২৫ সালে ভারত বাংলাদেশে ১.৪৭ বিলিয়ন ডলারের তুলার সুতা রপ্তানি করেছে, যা তাদের মোট সুতা রপ্তানির সবচেয়ে বেশি। গত বছর ভারত বাংলাদেশে ১২ থেকে ১৪ লাখ বেল তুলা রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশ যে পরিমাণ পোশাক রপ্তানি করে, তার ২০ শতাংশ যায় যুক্তরাষ্ট্রে। অপরদিকে ভারতীয় তুলা দিয়ে তৈরি ২৬ শতাংশ পণ্য মার্কিন বাজারে যাচ্ছে।

কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির সেক্রেটারি জেনারেল চন্দ্রিমা চ্যাটার্জি বলেন, “আমার ভয়, ভারতের তুলার সুতার ওপর তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা কিনতে পারবে এবং টেক্সটাইল মিলগুলো সেগুলো ব্যবহার করে সুতা উৎপাদন করতে পারবে।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা সুতা তৈরিতে ১০০ শতাংশের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করলেও, তারা দাবি করতে পারবে ১০০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে তা যাচাই করবে? বাংলাদেশ যে তৈরি পোশাকে শক্তিশালী, আমরা হয়ত হেরে যেতে পারি।”

ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স ন্যাশনাল কমিটি অন টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান সঞ্জয় কে জৈন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি পোশাক (নিট ও ওভেন উভয়ই) আমদানি করবে। ফলে ১০০ শতাংশ সুতির পণ্য যেমন—টি-শার্ট এবং মেয়েদের টপস রপ্তানিতে ভারত তার প্রতিযোগিতার ক্ষমতা হারাবে।”

তবে কিছু ভারতীয় ব্যবসায়ী আশা হারাতে চান না। তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তুলা এনে সেখান থেকে সুতা তৈরি করে পোশাক বানিয়ে রপ্তানি করতে বাংলাদেশকে লজিস্টিক সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ হবে।

এনএন/ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬



Scroll to Top