বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার ৩৩ বিষয়ে যৌথ বিবৃতি, ৯ খাতে সহযোগিতা জোরদারে সম্মতি | চ্যানেল আই অনলাইন

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার ৩৩ বিষয়ে যৌথ বিবৃতি, ৯ খাতে সহযোগিতা জোরদারে সম্মতি | চ্যানেল আই অনলাইন

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ৯টি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠক শেষে ৩৩ দফা যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আজ (২২ জুন) সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন সফর-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জানান, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া মোট ৯টি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩৩ বিষয়ে যৌথ বিবৃতিতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং বিনিয়োগ ও সন্ত্রাস দমন সংক্রান্ত দুটি এক্সচেঞ্জ অব নোটস স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বৈঠকে রাজনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, জনশক্তি রপ্তানি, শিক্ষা, পর্যটন, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে দুই দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়। একই সঙ্গে হালাল শিল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাংলাদেশে হালাল সনদ ব্যবস্থা উন্নয়ন, গবেষণা ও দক্ষ জনবল তৈরির ক্ষেত্রেও সমঝোতা হয়েছে।

প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রযুক্তি পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও মহামান্য রাজার সঙ্গে আলোচনায় দ্রুত শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি অভিবাসন ব্যয় কমানো, শ্রমিক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

জ্বালানি খাতে এলএনজি, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা কামনা করে বাংলাদেশ।

এছাড়া আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদার, আরসিইপিতে অন্তর্ভুক্তি, ফিলিস্তিন ইস্যু, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, মানবপাচার ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। সফরকালে মালয়েশিয়ার পাঁচটি শীর্ষ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে পেট্রোনাস, আজিয়াটা, এয়ারএশিয়া, পারডুয়া এবং এমএমসি পোর্ট।

মাত্র ১৮ ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন। তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

Scroll to Top