
ছবি: ইউনিসেফ
বাংলাদেশের শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষায় জরুরি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল। তিন দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে তিনি বাল্যবিবাহ বন্ধ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নিউইয়র্ক ও ঢাকা থেকে প্রকাশিত ইউনিসেফের এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। সফরে ঢাকার কড়াইল বস্তিতে পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন ক্যাথরিন। পাশাপাশি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন তিনি।
কড়াইল বস্তিতে শিশু ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে দারিদ্র্য, পড়াশোনার বাধা এবং মৌলিক সেবার সীমিত সুযোগের কথা শোনেন ক্যাথরিন। সেখানে বুশরা নামের ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত একটি শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রের কমিউনিটি নেতারা তার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে বাল্যবিবাহ থেকে তাকে রক্ষা করেন।
ক্যাথরিন বলেন, মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং তাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে তা তাদের, তাদের কমিউনিটি এবং বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই। ইউনিসেফের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাল্যবিবাহের কারণে মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়, অল্প বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকি বাড়ে এবং জীবনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন ক্যাথরিন। এ সময় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানোর সরকারি অঙ্গীকারের প্রশংসা করার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ক্যাথরিন বলেন, ‘বাজেটের মধ্য দিয়েই অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হয়। শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সুরক্ষায় বিনিয়োগ মানে বাংলাদেশের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ।’
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত একটি শিক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন ক্যাথরিন। সেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষা এবং বৃত্তিমূলক দক্ষতা অর্জনের গুরুত্ব সম্পর্কে শোনেন তিনি।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করে ক্যাথরিন শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা উভয় জনগোষ্ঠীর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তার কারণে রোহিঙ্গা শিশুরা অনেক কিছু হারিয়েছে। এখন তাদের শিক্ষা থেকেও বঞ্চিত হতে হবে, এটা হতে দেওয়া যাবে না। তাদের এবং যে কমিউনিটি তাদের আশ্রয় দিয়েছে, তাদের জন্য বিশ্বকে অবশ্যই বিনিয়োগ করতে হবে।’
ইউনিসেফের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংস্থাটি বাংলাদেশে শিশু ও পরিবারের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান, পুষ্টি, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও শিশু সুরক্ষা সেবা নিশ্চিত করতে সরকার ও সহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, কিশোরীদের ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারেও কাজ করছে সংস্থাটি।
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, অপুষ্টি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, শিক্ষা, শিশু সুরক্ষা এবং মানসিক সহায়তা দিচ্ছে ইউনিসেফ ও সহযোগী সংস্থাগুলো।
মানবিক সহায়তার তহবিল কমে যাওয়ায় এসব জরুরি সেবা চালু রাখা এবং অর্জিত অগ্রগতি ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক সহায়তা প্রয়োজন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…


