বাংলাদেশের প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের প্রশংসা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনকে সফল উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, জাপানের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী নির্বাচনটি বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে এসব কথা বলেন তাকাইচি সানায়ে। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় গত পাঁচ দশক ধরে জাপানের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় জাপানের গঠনমূলক ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের অভিন্ন মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এক ট্রিলিয়ন ইয়েন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
উৎপাদনশিল্প, খাদ্য ও কৃষি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং ওষুধশিল্পে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে করব্যবস্থা, শুল্ক ছাড়করণ, অর্থ প্রেরণ ও লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং পূর্বানুমানযোগ্যতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় বা বিআইজি-বি উদ্যোগকে ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির জন্য বিআইজি-বি’ নামে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী–মহেশখালী এলাকাকে সরবরাহ, পরিবহন, জ্বালানি ও শিল্পের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করতে একসঙ্গে কাজ করবেন তারা।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া এবং গণপরিবহনের জন্য গণদ্রুত পরিবহনব্যবস্থার রেলপথ নির্মাণকাজ দ্রুত শুরুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশকে ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের ঋণ সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তারেক রহমান। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেন দুই নেতা।
মিয়ানমারের সংকট ও রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন তাকাইচি সানায়ে। একই সঙ্গে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাকে সংকটের চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেন তারা।
এ ছাড়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, উপকূলীয় নিরাপত্তা, বন্দর সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ানোর বিষয়েও একমত হয়েছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।



