ফিলিং স্টেশনে তদারকি জোরদার, ট্যাগ অফিসারদের কর্মপরিধি নির্ধারণ | চ্যানেল আই অনলাইন

ফিলিং স্টেশনে তদারকি জোরদার, ট্যাগ অফিসারদের কর্মপরিধি নির্ধারণ | চ্যানেল আই অনলাইন

দেশের সব ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ট্যাগ অফিসারদের জন্য বিস্তারিত কর্মপরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় স্টেশনের মজুদ, সরবরাহ, বিক্রয় ও তদারকির প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

নির্ধারিত কর্মপরিধি অনুযায়ী, ট্যাগ অফিসারদের প্রতিদিন ফিলিং স্টেশনের প্রারম্ভিক মজুদ রেকর্ডভুক্ত করতে হবে এবং ডিপো থেকে সরবরাহকৃত জ্বালানি তেল সরাসরি উপস্থিত থেকে পরিমাপপূর্বক গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় পে-অর্ডার ও ডিপোর চালান বা রিসিটের সঙ্গে তেলের পরিমাণ মিলিয়ে দেখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ডিপ-রড বা ডিপ-স্টিক পদ্ধতিতে তেলের পরিমাণ যাচাই, দৈনিক জ্বালানি গ্রহণের হিসাব রেজিস্টারে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে কিনা তা মনিটরিং এবং ডিসপেন্সিং মেশিনের মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে বিক্রয়ের হিসাব মিলিয়ে দেখার বিষয়টিও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

দৈনিক বিক্রয় শেষে সমাপনী মজুদ পর্যালোচনার পাশাপাশি ডিসপেন্সিং মেশিনের পরিমাপ সঠিক হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে। একইসঙ্গে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের অনুমোদিত লে-আউট অনুযায়ী মজুদ ক্ষমতা যাচাই এবং ফিলিং স্টেশনের আশেপাশে কোনো অননুমোদিত ট্যাংক বা স্থাপনা আছে কিনা তা পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করতে ডিপো থেকে পাম্প এবং পাম্প থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে দৃশ্যমান করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ডিপো, ট্যাঙ্কার, পাম্প ও খুচরা বিক্রির তথ্য একত্রে পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিটি পাম্পে দিনে অন্তত তিনবার (সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা) স্টক আপডেট বাধ্যতামূলক করতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ডিপো থেকে জ্বালানি নেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খুচরা বিক্রি শুরু না হলে তা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। উদাহরণস্বরূপ, জ্বালানি গ্রহণের এক ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি শুরু বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রথমবার সতর্কতা, দ্বিতীয়বার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং তৃতীয়বার সাময়িক স্থগিতাদেশসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া পাম্প খোলা থাকা, স্টক রেজিস্টার সংরক্ষণ, ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন, ক্যাশ মেমো প্রদান, নির্ধারিত সীমা অনুসরণ, কন্টেইনারে অবৈধ বিক্রি রোধ এবং সারি ব্যবস্থাপনা এসব বিষয় জিও-ট্যাগসহ প্রমাণ রেখে নিয়মিত রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিক্রয় ব্যবস্থায় অনিয়ম কমবে এবং ভোক্তা পর্যায়ে স্বচ্ছতা বাড়বে।

Scroll to Top