
নারায়ণগঞ্জ, ২৩ মার্চ – নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জমি নিয়ে বিরোধ ও চাঁদা না দেওয়ার জেরে একটি বাড়িতে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই অমানবিক ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সেখানে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন। এর আগে গত ২০ মার্চ সকালে ফতুল্লার শিবু মার্কেট পশ্চিম লামাপাড়া এলাকায় ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল লাঠি, রড এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা মূল ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের ওপর আক্রমণ করে। এ সময় তারা ঘরের দরজা, জানালা এবং আসবাবপত্র ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার রাতে ভুক্তভোগী রোজিনা বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, স্থানীয় বিএনপি নেতা আমির প্রধানের সহযোগী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে জমি দখলের উদ্দেশ্যে তাদের ওপর নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এক পর্যায়ে তাদের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এই বিপুল অঙ্কের চাঁদার দাবি পূরণ না করায় হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়।
পরিবারের দাবি, হামলার সময় দুর্বৃত্তরা আলমারি ভেঙে নগদ অর্থ এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে তাদের প্রায় ২৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলায় আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। এই আকস্মিক ও সহিংস ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি উঠে আসার পর তা রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় এবং দলীয় নেতাকর্মীদের দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ প্রদান করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগীদের খোঁজখবর নেন।
তারা ক্ষতিগ্রস্ত ঘরটি পুনর্নির্মাণে সহায়তার পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে এক লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। প্রতিনিধিদলের নেতা মামুন মাহমুদ সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মী জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ কোনো ধরনের অপরাধ করলে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি এই ঘটনায় পুলিশের কোনো গাফিলতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানিয়েছেন যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
এ এম/ ২৩ মার্চ ২০২৬





