প্রস্তাবিত বাজেট কি ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের বাস্তবায়নের সূচনা করতে পারবে?

প্রস্তাবিত বাজেট কি ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের বাস্তবায়নের সূচনা করতে পারবে?

নাগরিক সমাজ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরামর্শ মিলিয়ে আরও ছয়টি সংযোজন প্রস্তাব করছি।

প্রথমত, ব্যক্তিকরের মতো রাজস্ব আহরণেরও পাঁচ বছরের রোডম্যাপ প্রকাশ করা হোক, খাতওয়ারি ত্রৈমাসিক মাইলফলকসহ, যাতে বছর শেষে বিশাল সংশোধনের অভ্যাস ভাঙে।

দ্বিতীয়ত, কর অব্যাহতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংসদে উপস্থাপন এবং কালোটাকা সাদা করার সুযোগ নিয়ে বক্তৃতার নীরবতাকে আইনের ভাষায় স্থায়ী নিষেধাজ্ঞায় রূপ দেওয়া হোক, কারণ এই সুযোগ সৎ করদাতার প্রতি অবিচার।

তৃতীয়ত, এডিপির আকার নয়, বাস্তবায়নের মান মাপার সূচক চালু এবং বৈদেশিক অর্থায়নের প্রকল্পে দ্রুত অনুমোদনের বিশেষ কাঠামো গঠন, যাতে প্রশাসনিক জট কাটে; সঙ্গে মেগা প্রকল্পের ব্যয় ও অগ্রগতি জনসমক্ষে সরাসরি প্রকাশের একটি উন্মুক্ত পোর্টাল।

চতুর্থত, সৌর প্রণোদনার পরের ধাপ হিসেবে অর্থায়নের ফাঁক পূরণ: বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে ছাদ-সোলার ও শিল্প-সোলারের জন্য স্বল্প সুদের একটি পুনঃ অর্থায়ন তহবিল, যাতে করছাড়ের সুফল মাঠপর্যায়ে মেগাওয়াটে রূপ নেয়।

পঞ্চমত, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও বিদ্যমান ভাতাগুলোকে জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক একক নিবন্ধনে আনা এবং ভাতার অঙ্ক মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সূচকায়নের নীতি গ্রহণ, যাতে প্রকৃত মূল্য ক্ষয়ে না যায়।

ষষ্ঠত, বাজেট প্রক্রিয়ায় নাগরিকের অংশগ্রহণ: ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাক-বাজেট গণশুনানি, স্থানীয় সরকারের জন্য রাজস্ব ভাগাভাগির সূত্র এবং প্রতি প্রান্তিকে সংসদে বাস্তবায়ন প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক করা, যাতে জবাবদিহি জুন মাসের আনুষ্ঠানিকতায় সীমিত না থাকে।

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ব্যয়, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটির রাজস্ব স্বপ্ন আর ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটির ঘাটতি, এই তিন সংখ্যার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে বাস্তবায়ন নামের সেতুটি। সরকারের বাজেটে ধরে রাখার মতো ভালো ভিত্তি আছে, ছায়া বাজেট দুটি দিয়েছে সেতুর নকশার ব্যবহারযোগ্য উপকরণ, আর নাগরিক সমাজ দিয়েছে সতর্কসংকেত। সংসদের বাজেট অধিবেশন যদি এই তিন উৎসকে মিলিয়ে অর্থবিলে প্রতিফলিত করতে পারে, তবে এবারের বাজেট শুধু ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট নয়, সবচেয়ে অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রক্রিয়া হিসেবেও মনে রাখা হবে। নইলে অতিরিক্ত আকারের এই বাজেট কেবল ঘাটতির বোঝা আর অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির আরেকটি দলিল হয়ে থাকার ঝুঁকিতে পড়বে।

  • সুবাইল বিন আলম টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক লেখক।

    ই–মেইল: [email protected]

    মতামত লেখকের নিজস্ব

Scroll to Top