
তেহরান, ৮ মার্চ – তেহরান প্রতিবেশী যেসব দেশে হামলা চালিয়েছে সেই দেশগুলোর কাছে ইরানের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শনিবার দুঃখপ্রকাশ করেছেন যা অনেককেই অবাক করেছে।
এক রাষ্ট্রের অন্য রাষ্ট্রের কাছে দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি বিশেষ করে চলমান কোনো সংঘাতের সময় বেশ বিরল এবং এ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সাধারণত রাষ্ট্রনায়করা দুঃখপ্রকাশ করেন অথবা কোনো ঘটনা থেকে কৌশলগতভাবে দায়িত্ব এড়িয়ে যান। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট এবার প্রতিবেশী দেশগুলোকে টার্গেটে পরিণত হওয়ার দায় সরাসরি স্বীকার করে নিয়েছেন এবং বলেছেন যে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে প্রথমে হামলা না হলে ইরানও তাদের ওপর হামলা করবে না।
তিনি উল্লেখ করেন যে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আক্রমণ করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই এবং ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য ক্ষমা চাওয়া প্রয়োজন। এই মন্তব্যের পর প্রশ্ন উঠছে যে এটি কি সত্যিকারের অনুশোচনা নাকি ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক বিপর্যয় নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশ সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।
পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন যে প্রাথমিক হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত হওয়া এবং কেন্দ্রীয় কমান্ড কাঠামো ব্যাহত হওয়ার পর অনিয়ন্ত্রিতভাবে এসব হামলা চালানো হয়েছিল। এই দুঃখপ্রকাশের মাধ্যমে তেহরান হয়তো বার্তা দিতে চাইছে যে তারা আঞ্চলিক পরিমণ্ডলে যুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে চায় না।
তবে কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয়ই শনিবার জানিয়েছে যে তারা তাদের লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে যা প্রমাণ করে ইরান বা তার বাহিনীর সাথে সম্পর্কিত হামলা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। প্রথম পর্যায়ের হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরা নিহত হওয়ায় এখন একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব পালন করছে।
বিপ্লবী গার্ডের মতো শক্তিশালী সামরিক এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা অন্তর্বর্তী সরকারের কতটা রয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছেন যে ইরান তার প্রতিবেশীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে মূলত আত্মসমর্পণ করেছে।
ট্রাম্প যুক্তি দিয়েছেন যে এ পদক্ষেপ প্রমাণ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি সামরিক চাপ কার্যকর হচ্ছে। অন্যদিকে পেজেশকিয়ানের জন্য হিসাবটি ভিন্ন হতে পারে কারণ নতুন একজন স্থায়ী নেতা নির্বাচনের আগে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো গেলে তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে। পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্যকে অনেকেই আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমণের চেষ্টা অথবা তেহরানের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক পুনর্গঠনের সময় বের করার কৌশল হিসেবে দেখছেন।
এম ম/ ৮ মার্চ ২০২৬





