প্রকৌশলীকে মারধর ও সরকারি অফিস ভাঙচুর, কেন্দ্রীয় নির্দেশে চবি ছাত্রদল নেতা হৃদয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

প্রকৌশলীকে মারধর ও সরকারি অফিস ভাঙচুর, কেন্দ্রীয় নির্দেশে চবি ছাত্রদল নেতা হৃদয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সোয়াদ সাদমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (Local Government Engineering Department) কার্যালয়ে এক প্রকৌশলীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও সরকারি অফিসে ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়ের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয়ভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

প্রকৌশলীকে মারধর ও সরকারি অফিস ভাঙচুর, কেন্দ্রীয় নির্দেশে চবি ছাত্রদল নেতা হৃদয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

গত সোমবার বিকালে ফটিকছড়ি এলজিইডি কার্যালয়ে গিয়ে এক কর্মকর্তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়। এ সময় অফিসের প্রিন্টার ভাঙচুর এবং মারধরের চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং চাকসুর সর্বশেষ নির্বাচনে ভিপি পদে প্রার্থী ছিলেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় তার ‘হৃদয় এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল বিষয়টি আমলে নিয়ে হৃদয়ের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করে। নোটিশে বলা হয়েছে, সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশনায় এই নোটিশ প্রদান করা হয়।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মইনুদ্দিন তার ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, হৃদয় টেন্ডার সংক্রান্ত বিষয়ে প্রকৌশলীকে হুমকি ও মারধরের চেষ্টা করেছেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রকৌশলী আতাউল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি উনাকে চিনতাম না। উনি প্রথমে আমার কাছে এসে, হিসাব রক্ষক সয়ন বড়ুয়ার ফোন নাম্বার চান। আমার মোবাইলটা হ্যাং হয়ে যাওয়ায় আমি তাকে বলি সে পাশের রুমেই আছে। তারপর এই হৃদয় পাশের রুমে গিয়ে সয়ন বড়ুয়াকে না পেয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। আমাকে মারতে তেড়ে আসেন। তাকে ২/৩ জন মিলে আটকে রাখতে পারছিলো না। তার সাথে থাকা বাকিরাও এইরকম এগ্রেসিভ আচরণ করছিল। এরমাঝখানে উনি বলেন যে উনাকে দেখলে ইউ এন ও পর্যন্ত দাঁড়িয়ে যায়, আমি কেন তার সামনে বসে তামাশা করছি। এসময় তিনি অফিসের প্রিন্টার সহ নানা সামগ্রী ভাংচুর করেন।”

আরও পড়ুনঃ পদোন্নতি বঞ্চিত ১৮২১ চিকিৎসকের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ” এই ধরনের অভিযোগ আনার জন্য তার অবশ্যই প্রমাণ থাকা লাগবে। আমি কোন টেন্ডারের জন্য এলজিইডি অফিসে গিয়ে প্রকৌশলী কে মারধর করেছি, সেটা তাকে অবশ্যই প্রমাণ সহ বলতে হবে, নাহলে তার (আরিফ মইনুদ্দিন) বিরুদ্ধে আমি মানহানির অভিযোগ করব। সবকিছুর আগে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, এরপর আমি নেতা। শিক্ষার্থী হিসেবে অবশ্যই আমার একটা মানসম্মান রয়েছে। তার এই ধরনের প্রমাণ বিহীন এলিগেশনে আমার সম্মানহানি হয়েছে। সে যদি প্রমাণ দিতে না পারে তার বিরুদ্ধে আমি অবশ্যই মামলা করব। সে যদি প্রমাণ দেখাতে পারে তাহলে তার যেকোনো কথাই আমি মেনে নেব।” তিনি আরো বলেন, “আমি ভাই আমার এক ছোটোভাইকে খুজতে গিয়েছিলাম, তাকে না পেয়ে প্রকৌশলী আতাউল্লাহর কাছে তার নাম্বার চেয়েছিলাম। সেটা নিয়ে সামান্য কথাকাটাকাটি হয়। অথচ তারা এইটাকে কোথায় নিয়ে গেলো।”

Scroll to Top